আবার ডোবাল ব্যাটিং

প্রতিরোধ স্থায়ী হলো মাত্র ৪০ মিনিট। দিনের খেলার দ্বিতীয় ওভারেই হাসান মাহমুদের ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়ে বল জমা পড়ল জশুয়া ডি সিলভার গ্লাভসে। রাতভর অপেক্ষার পর সংগ্রামী সকালের প্রত্যাশার সেখানেই সমাপ্তি। জাকের আলি অনিক শরিফুল ইসলামকে নিয়ে আরও কিছুক্ষণ লড়াইটা চালালেন, দুটো চার মারলেন। এরপর লেগ বিফোর উইকেট হয়ে আউট হয়ে গেলেন। বাংলাদেশের স্বস্তি যে তারা হারলেও কোনো ইনিংসে অলআউট হয়নি! প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট পতনের পর ডিক্লেয়ার দিয়েছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ইনিংসে শরিফুল ইসলাম রিটায়ার্ড হার্ট। স্কোরকার্ডে দুই ইনিংসেই ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরেছে ২০১ রানে।

চতুর্থ দিনের বিকেলেই আসলে বোঝা যাচ্ছিল, কোনদিকে যাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য। ৩৩৪ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনের খেলা শেষে ১০৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট নেই, উইকেটে ব্যাটসম্যান শুধুই জাকের আলি আর তার সঙ্গী সব বোলাররা। এমন পরিস্থিতিতে বাকি ২২৫ রান যে তাদের পক্ষে যোগ করা গাণিতিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবের দুনিয়ায় অসম্ভব, সেটা বুঝতে জ্যোতিষী হতে হয় না। তবুও অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছেন, একটা লড়াইয়ের প্রত্যাশায়। দিনের প্রথম ১০ মিনিটের ভেতর হাসান মাহমুদের আউট সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দিয়েছে। এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে জাকের আলির মৃদু প্রতিরোধ, নিস্ফল লড়াই। ২৩ বলে ১৬ রানের ছোট্ট জুটিতে অবধারিত হার খানিকটা বিলম্বিত। এরপর আলজারি জোসেফের ম্যাচে পঞ্চম শিকার হয়ে বিদায় নিলেন জাকের। ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলটাতেই শরিফুল আলজারি জোসেফের বাউন্সার খেয়েছেন পিঠে, ডান কাঁধের ওখানে। ব্যাটিং করতে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। পরের ওভারটা শেষ হতেই মাঠে ফিজিও ছুটে আসেন আর শরিফুল নিজেকে রিটায়ার্ড হার্ট ঘোষণা দিয়ে মাঠও ছাড়েন। তাতেই বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি, ৩৮ ওভারে ১৩২ রানে থেমে গেল বাংলাদেশের লড়াই। হার মানতে হলো ২০১ রানে।

হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের অধিনায়করা বরাবরই ভালো ভালো কিছু কথা শুনিয়ে থাকেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হলেও সংস্কৃতিটা ধারণ করেন, তিনিও বলেছেন, ‘আমরা ভালো বোলিং করেছি, তাসকিন ৬ উইকেট পেয়েছে। তবে ওরা ৬ উইকেট চলে যাওয়ার পর সপ্তম উইকেটে একটা বড় জুটি গড়েছে, ওখানেই আমরা ম্যাচটা হেরে গেছি। আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি, কিছু ভুল করেছি, তবে সেসব হতেই পারে। পরের ম্যাচে আমরা শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব। আমাদের পেসাররা ভালো বল করেছে, নাহিদ রানাও আছে, তাইজুল ভালো বোলিং করেছে; আমি তাদের পারফরম্যান্সে সত্যিই খুশি।’

সেঞ্চুরি ও দুই উইকেট নিয়ে জাস্টিন গ্রিভস হয়েছেন ম্যাচসেরা, তার অনুভূতি প্রকাশে জানিয়েছেন, ‘জশুয়া আর আমার একটা পরিকল্পনা ছিল যেটা দুর্ভাগ্যবশত হয়নি। কেমারকে ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য। আমি শুধু নিজের খেলাটা খেলতে চেয়েছি, এটাই ক্রেইগ (ব্র্যাথওয়েট) আমাকে সবসময় বলে আসছে।’ ৩০ নভেম্বর থেকে পরের টেস্ট শুরু জ্যামাইকার কিংস্টনে।