প্রায় ১৪ মাস পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো লেবাননে। বুধবার ভোর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে এমন আশায় ধ্বংসস্তূপে নিজ ঘর-বাড়িতেই ফিরে আসছেন বাস্তুচ্যুতরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর ঘোষণার পর বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই বেসামরিক নাগরিকেরা দক্ষিণে তাদের ঘর-বাড়ির দিকে ফিরে আসতে শুরু করে।
বুধাবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই লেবাননের সেনাবাহিনীও দ্রুত ঘোষণা করে যে তারা ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা আক্রমণকৃত দক্ষিণে তাদের সেনা মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যদিও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনী জনগণকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকাতে ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারপরও বেসামরিক নাগরিকদের স্রোত দেখা গেছে।
দক্ষিণ লেবাননের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর সিডন থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জানান যে, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সাথে সাথে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি ফিরে আসছিলো। অনেকে বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন। ঘরে ফেরাই যেনো তাদের কাছে বিজয়।‘
এদিকে যুদ্ধবিরতির সত্ত্বেও লেবাননে মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান ও বোমা হামলায় পুরো এলাকা জুড়ে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে রয়েছে। ধ্বংস হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, অনেকেই জীবিকা হারিয়ে অসহায়।
বুধবার কার্যকর হওয়ায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন। পরবর্তীতে এটি আবারও বাড়ানো হবে।