আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে ভারতের লোকসভা। গতকাল বুধবারও আদানির ঘুষকান্ড নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখে লোকসভার দুই কক্ষের অধিবেশন সারা দিনের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আদানি ছাড়াও লোকসভা ও রাজ্যসভায় মণিপুর সংকট, সম্ভলের সহিংসতাসহ কোনো প্রস্তাবই গৃহীত না হলে সভার কাজ চালাতে বাধা দেন বিরোধী নেতারা। তার পরিপ্রেক্ষিতেই দুই কক্ষের অধিবেশনই মুলতবি করে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদের দুই কক্ষের কার্যবিবরণী থেকে আদানি শব্দটিও বাদ দেওয়া হয়। ফলে শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম তিন দিনই সংসদের দুই কক্ষেই উত্তেজনা অব্যাহত থাকল।
গৌতম আদানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সখ্য নিয়ে বরাবরই সমালোচনায় মুখর কংগ্রেস। সম্প্রতি আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি ও প্রতারণার মামলায় তা আরও জোরালো হয়েছে। তথ্য গোপন করে বাজার থেকে অনৈতিকভাবে সম্পদ সংগ্রহের অভিযোগে গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আলোচনার সুযোগ দেওয়া না হলে সংসদের ভেতর ও বাইরে কংগ্রেস যে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেবে, সেটি আগেই জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধীদের দাবির মুখেও আদানি প্রসঙ্গে সংসদে যথারীতি নীরব থেকেছে ভারত সরকার। আর দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে অচল হয়ে পড়ে ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষই।
তবে সংসদে ক্ষমতাসীনরা নীরব থাকলেও আদানির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিজেপি। দলটির দাবি, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি খর্ব করতে এটি বিদেশি শক্তির চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছে তারা। আদানির পক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পদক্ষেপের পর কেনিয়া সরকার আদানির সঙ্গে হওয়া দুটি চুক্তি বাতিল করেছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা আদানির শিল্প চুক্তি নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের জ¦ালানি সংস্থা টোটাল এনার্জি আদানির মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গোষ্ঠীকে অর্থ সাহায্য করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা মুডিজ ও ফিচ আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়ন স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করে দিয়েছে। এর ফলে নতুন কোনো ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে শিল্পগোষ্ঠীটির জন্য। এদিকে, মামলার বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এক বিবৃতিতে শিল্পগোষ্ঠীটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে গৌতম আদানি, তার ভাতিজা সাগর আদানি এবং সংস্থাটির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা বিনীত জৈনকে অন্য তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদেশি দুর্নীতিসংক্রান্ত কোনো আইন ভঙ্গ করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করে আদানি শিল্পগোষ্ঠী।