ডারবানের কিংসমিডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জাজনকভাবে মাত্র ৪২ রানে গুটিয়ে গেছে শ্রীলংকা। এটি টেস্ট ক্রিকেটে তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে শ্রীলংকার সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ১৯৯৪ সালে, ক্যান্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রান করেছিল তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মার্কো ইয়ানসেন একাই শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করে দেন। ৬.৫ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়ে তিনি ভয়ঙ্কর স্পেল উপহার দেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জেরাল্ড কুয়েটজের ২ এবং কাগিসো রাবাদার ১ উইকেট।
শ্রীলংকার ইনিংসটি যেন শুরুর আগেই শেষ। দলের দুই ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিস (১৩) এবং লাহিরু কুমারা (১০) কেবল দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান। বাকিরা কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। একের পর এক ব্যাটার দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান, কেউই বলের সুইং ও বাউন্সের মোকাবিলা করতে পারেননি।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসে ১৯১ রানে অলআউট হয়। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা দলটির ইনিংসের স্থায়িত্ব বাড়ান। তার ৭০ রানের ইনিংসই ছিল প্রোটিয়াদের বড় অবদান। শ্রীলংকার বোলারদের মধ্যে আসিথা ফার্নান্দো ও লাহিরু কুমারা ৩টি উইকেট নেন।
শ্রীলংকার ব্যাটিং ধসের পেছনে ছিল কয়েকটি কারণ। প্রথমত, দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের সামনে তাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়। ইয়ানসেনের নিখুঁত লাইন ও লেংথের সুইং বোলিংয়ের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, পিচের অতিরিক্ত বাউন্স শ্রীলংকার ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করে। তাদের শর্ট বল মোকাবিলার দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মাত্র ৪২ রানে অলআউট হয়ে শ্রীলংকা নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় যোগ করেছে। তবে এটাই সর্বনিম্ন নয়। টেস্টে ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেটা ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। পরের চারটিই আবার দক্ষিণ আফ্রিকার। যার প্রথম তিনটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, একটি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। প্রোটিয়ারা থেমেছিল যথাক্রমে ৩০, ৩০, ৩৫ ও ৩৬ রানে। ৩৬ রানে আবার অস্ট্রেলিয়া ও ভারত অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪৩।