লিভারপুলের কাছে হেরে শঙ্কায় রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের জন্য কি দুশ্চিন্তা করার সময় চলেই এসেছে? নতুন ফরম্যাটে লিগ পর্বের আট ম্যাচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচ শেষে যে রিয়ালের অর্জন মাত্র ৬ পয়েন্ট। ৩৬ দলের মধ্যে কার্লো আনচেলত্তির দল বর্তমানে আছে তালিকার ২৪তম স্থানে। সবশেষ বুধবার রাতে অ্যানফিল্ডে লিভারপুল ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়ালকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০০৯ সালের পর এই প্রথম রিয়ালকে হারাল লিভারপুল।

লিভারপুল পাঁচ ম্যাচের সবগুলো জিতে আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর রিয়ালের এটি তৃতীয় হার। শেষ ১৬-তে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে হলে থাকতে হবে প্রথম আট দলের মধ্যে। আতলান্তা, সালজবুর্গ, ব্রেস্তের সঙ্গে সব ম্যাচ না জিতলে সেই আট দলে থাকাটা শঙ্কায় পড়ে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য। তবে পাঁচ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলের ৬ থেকে ১২ নম্বরে থাকা দলগুলোর পয়েন্ট ১০। অর্থাৎ এই দলগুলোর অনেকেরই সম্ভাব্য পয়েন্ট হতে পারে ১৯। রিয়াল বাকি তিন ম্যাচ জিতলে হবে ১৫। তারা যে শেষ ষোলোতে সরাসরি কোয়ালিফাই করা থেকে দূরে, তা বলাই যায়।

বুধবার লিভারপুলের মাঠে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫২ মিনিটে অ্যানফিল্ডে সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান ম্যাক অ্যালিস্টার। বক্সে ঢুকে ফিরতি পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার। চলতি আসরে এটা তার দ্বিতীয় গোল। ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্বল স্পট-কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সহজেই ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের আইরিশ গোলরক্ষক কুইভিন কেলাহার। গেল দুই সপ্তাহে তিনটি পেনাল্টি সেভ করলেন কেলাহার, তাতে গড়েছেন ইতিহাসও। গত ১১৫ বছরের মধ্যে লিভারপুলের ইতিহাসে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ঠেকালেন টানা দুই ম্যাচে পেনাল্টি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে কেলাহার তিন ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি, শট ঠেকিয়েছেন ১৩টি। অথচ চোট থেকে অ্যালিসন ফিরলেই কেলাহারকে বসতে হবে বেঞ্চে। ৬৯ মিনিটে লিভারপুলও পেনাল্টি পেয়েছিল, কিন্তু মোহামেদ সালাহ গোল করতে ব্যর্থ হন। ৭৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান কোডি গাকপো। রবার্টসনের ক্রসে বক্সে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান এই ডাচ ফরোয়ার্ড।

পয়েন্ট টেবিলে নিচের দিকে

থাকলেও আনচেলত্তি এখনো আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ ২৪-এর মধ্যে থাকতে হবে, আমরা সেটা করব। আগের বছরগুলোর মতোই আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

রিয়ালের বিপক্ষে গোল ও জয় নিয়ে অ্যালিস্টার বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে গোল করাটা সব সময়ই আনন্দের। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমরা জিতেছি। আমরা ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছি, যা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’ এমবাপ্পের পেনাল্টি সেভ করা কেলাহার বলেন, ‘এটা বড় জয়ই বলব, গেল চ্যাম্পিয়নস লিগগুলোয় তারা আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। আমরা এখানে আজ পারফরম্যান্স করতে চাইছিলাম, সেটি হলো। আমি খেলোয়াড়দের দিকে খুব বেশি তাকাই না, আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং আবারও সঠিক দিকেই ঝাঁপ দিয়েছি।’ ক্লাপ তার আমলে যা পারেননি সেটিই করে দেখালেন সøট।