চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৯৯৯টি বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক উপমন্ত্রী মুরলীধর মহল পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তার মতে, আগের বছরের চেয়ে এবার হুমকির পরিমাণ ১০ গুণ বেশি। শুধু অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহেই ৫০০-এর বেশি হামলার হুমকি এসেছে।
মুরলীধর মহল বলেন, সাম্প্রতিক হুমকিগুলোর সবই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের কোনো বিমানবন্দর কিংবা বিমানে কোনো হুমকি শনাক্ত হয়নি। এসব হুমকির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ২৫৬টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া হুমকির সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমানবন্দরগুলোয় ১২০টি ভুয়া হুমকির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যার অর্ধেকই ছিল দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিমানবন্দরগুলো কেন্দ্র করে।
এদিকে চলতি বছরের অক্টোবরে ভুয়া হুমকি কেন্দ্র করে কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কোনো কোনো ফ্লাইটের পথ ঘুরিয়ে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়েছে।
ভারতের বিমানবন্দরগুলোয় একটি করে বোমা হামলার হুমকি পর্যালোচনাসংক্রান্ত কমিটি থাকে। তারা হুমকির মাত্রা পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। কোনো স্থানে হুমকি পেলে সাধারণত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, স্নিফার ডগ (শনাক্তকারী কুকুর), অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ এবং চিকিৎসকদের জড়ো করা হয়। বিমান ও যাত্রী উভয়কে তল্লাশি করা হয়। আর এসব করতে গিয়ে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। ক্ষতি হয় হাজার হাজার ডলারের।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত বছর ১৫ কোটির বেশি যাত্রী বিমানে চলাচল করেছে। দেশটির ১৫০টির বেশি বিমানবন্দরে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি ফ্লাইট চলাচল করে।