জামালপুর

বেসরকারি হাসপাতাল ও বিএনপির কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা-ভাঙচুর

জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে এক দল দূর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) মধ্যরাতে ছুরি ও পিস্তল নিয়ে হামলা করে। এ সময় হাসপাতালের দুই কর্মীকে মারধর করে ও হাসপাতালের অভ্যর্থনা ডেস্ক, কাউন্টার, ভাঙচুর করে।

পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে হামলা করে এবং ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনার পরে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে পৌর শহরের সরদারপাড়া এলাকায় বেসরকারি এম এ রশিদ হাসপাতালের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানা মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সিভি টিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, ‘পাঁচ যুবক হাতে পিস্তল নিয়ে হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশ করেন। অভ্যর্থনা ডেস্ক, কাউন্টারে থাকা কর্মচারীদের দিকে পিস্তল তাক করে হাসপাতালে আরো ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করেন এবং দুই কর্মীকে ধরে মারধর করেন।’

হাসপাতালে সূত্রে জানা গেছে, ‘রাতে দল দূর্বৃত্তরা একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এমএ রশিদ হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করে।

বিএনপির দলীয় কার্যালয় এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মাইক্রবাস ও মোটরসাইকেল যোগে কয়েকজন যুবক পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি অফিসের সামনে নামেন। এ সময় তারা অফিসে সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির নেতাদের গালিগালাজ করেন ও অফিসে হামলা চালায়। পরে তারা পিস্তল ওপর দিক করে গুলি ছোঁড়ে সেখান থেকে চলে যায়।

এমএ রশিদ হাসপাতালের হাউজ ক্লিনার মো.রাজু বলেন, ‘চারজনের হাতে রিভলবার ও বড় বড় অস্ত্র ছিল। আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে আমাকে বাইরে নিয়ে আসে। বাইরে নিয়ে এসে আমাকে মারধর করছে। আমি এখানে শুয়ে পড়ছিলাম। অস্ত্র ধরে আমাকে মারছে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পরেও তারা আমাকে মারছে।’ 

এমএ রশিদ হাসপাতালে পরিচালক ডা.মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাত ১২ টা ৪৬ মিনিটে কয়েকজন যুবক মাইক্রোবাস ও মোটারসাইকেল করে এসে নিরাপত্তাকর্মীদের পিস্তল ধরে ও গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে ভেতরে দরজা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। ভেতরে ঢুকার যে কয়টা দরজা ছিল তা সব ভেঙে ফেলেছে। একাউন্টের গ্লাস ভাঙচুর করেছে। একজনের দুই হাতে পিস্তল নিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়েছে। আমাদের দুইজন কর্মীকে মারধর করেছে। তারা ছয় মিনিট ধরে ভাঙচুর করে। পরে তারা আবার চলে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের চেষ্টা চলছে।’

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। হাসপাতালে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনও করা হয়েছে। পরে অস্ত্রধারীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। সেখানে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নাম ধরে গালিগালাজ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা যে দলেরই হোক, তারা যদি বিএনপিরও হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালে ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজ আছে। সেই ফুটেজ দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। আর পুলিশ প্রশাসন যদি এটা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জামালপুরবাসী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো.আতিক বলেন, ‘এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আসামি আটকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’