কুমিল্লার বরুড়ার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ বরাদ্দের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত জুন মাসে উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংসদীয় এলাকায় রাস্তাঘাট সংস্কার, মসজিদ-মন্দির সংস্কার. গভীর নলকূপ স্থাপন ও ঘাটলা নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মেসার্স প্রখর প্রকৌশল সংস্থা, মেসার্স মুন্সি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মার্স ইন্জিনিয়ারিং সলিয়েশন নামে তিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের কাজ উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তার বাবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশনকে কাজ দিয়ে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে গত জুন মাসে বরাদ্দের সব টাকা তুলে নেন। যা সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং বলেন, বিশেষ বরাদ্দের এক কোটি টাকা এলজিআরডি অধীনে ৫০ লাখ এবং উপজেলা খাতের এডিপি অধীনে ৫০ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছি উল্লিখিত বরাদ্দের মধ্যে একটি প্রকল্প মার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী পিপিআর অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের ক্রয়কার্য সম্পাদন করে। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কমিটিকে ক্রয় কার্যের পূর্বেই অবহিত করা এটি প্রকৌশলী কর্মকর্তার দায়িত্ব। কিন্তু বাবা-ছেলের সম্পর্ক গোপন করে নিজেই বাবার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে আইনের লঙ্ঘন করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, শতভাগ কাজ করা হয়েছে। এলজিইডি অফিসে কিছু দুষ্টু একটি চক্র আছে। তার চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।
এর আগে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসানকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনার কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে মেহেদী তার বাবার নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন এ ইব্রাহিম ও কাফরুল মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের ২০২২-০২৩ ও ২০২৩-০২৪ অর্থবছরে মোট ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭১ টাকার কার্যাদেশ প্রদান করেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালার লঙ্ঘন। ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ পত্রে আরও জানা যায়, কেন “চাকরি হতে বরখাস্ত” করা হবে না অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী স্থানীয় সরকার বিভাগকে লিখতভাবে জবাব দেন।