ছাত্র-জনতা প্রমাণ করেছে এই দেশ স্বৈরশাসকদের নয়: ড. কামাল

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গত ১৬ বছরে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছে। যেই জাতীয় ঐক্যমত গড়ে উঠেছে তা সুসংহত করতে গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে জাতীয় সংলাপ অত্যন্ত জরুরি। গণফোরাম বিগত ৩১ বছরে তার নীতি-আদর্শের সঙ্গে আপস করেনি। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের চেতনায় বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচার খুনী হাসিনার দোসররা নিত্য-নতুন ষড়যন্ত্রের ফন্দি করছে। যেই প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে পালাতে বাধ্য করেছে সেই চেতনা সমুন্নত রাখতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে জনগণের মালিকানা বুঝিয়ে দিতে হবে। অতএব কার্যকরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।

গণফোরাম সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ আমাদের দেশের জনগণ। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই উসকানি দিক না কেন বাংলাদেশের জনগণ সম্প্রীতি বজায় রাখবে। ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান কোনো অপশক্তির কুমন্ত্রণায় নিজেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করা যাবে না। ছাত্র সমাজ একতাবদ্ধ থাকলে কোনো স্বৈরাচারের ক্ষমতা নাই জনগণকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। আমরা স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হয়েছি কিন্তু এখনো সংকট কাটেনি। এই সংকট থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণফোরাম সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. মিজানুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কো-চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণফোরাম সমন্বয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম আলতাফ হোসেন, সমন্বয় কমিটির সদস্য সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক সহ দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দ।