আলেপ্পোর দক্ষিণে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে রুশ বিমান হামলা, নিহত ৪

সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের যোদ্ধারা আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর সিরিয়ায় ‘ধারাবাহিক বিমান হামলা’ চালিয়েছে রাশিয়া। রবিবার (১ ডিসেম্বর) ভোরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইদলিবের ভেতরে বিমান হামলায় চারজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (এসওএইচআর) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এসওএইচআর জানিয়েছে, রাশিয়ার বিমান বাহিনী ইদলিব ও হামারের গ্রামাঞ্চলেও আঘাত হেনেছে, যেখানে বিদ্রোহীদের নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠীটি সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এদিকে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সিরিয়ার সরকার। চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া এই অভিযান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।

এসওএইচআর জানিয়েছে, বুধবার থেকে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিকসহ তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিদ্রোহী যোদ্ধারা খুব বেশি প্রতিরোধ ছাড়াই শনিবার আলেপ্পোতে ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো রুশ হামলা আঘাত হানে।

ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা সরকারের কাছ থেকে আলেপ্পো দখল করে নিয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে এসওএইচআর। তারা কুর্দি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল করেনি বলে জানিয়েছে তারা।

এসওএইচআর জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা আলেপ্পো থেকে দক্ষিণে সিরিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর হামার নিকটবর্তী গ্রামাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে ঢুকে পড়েছে। এসওএইচআর এক্স-এ লিখেছে, সিরিয়ার সামরিক বাহিনী এখন ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর ও নগরের চারপাশে প্রতিরক্ষা দুর্গ তৈরি করেছে।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে সেনা, রকেট লঞ্চার ও ভারী সামরিক হার্ডওয়্যার দিয়ে প্রতিরক্ষা লাইন জোরদার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘সিরিয়া-রাশিয়ার যৌথ যুদ্ধবিমান’ বিদ্রোহীদের অবস্থানে সুনির্দিষ্ট হামলা জোরদার করেছে, এতে কয়েক ডজন লোক নিহত ও আহত হয়েছে।

তারা আরও জানায়, তাদের সৈন্যরা দখল করা বেশ কয়েকটি শহর পুনর্দখল করেছে এবং বিদ্রোহীদের অগ্রসর হতে বাধা দিয়েছে এবং দাবি করেছে যে তারা ওই অঞ্চল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, ‘সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের মোকাবিলা করা হবে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের হামলা যত তীব্রই হোক না কেন, সিরিয়া তার মিত্র ও বন্ধুদের সহায়তায় তাদের পরাজিত ও নির্মূল করবে।

২০১১ সালে আরব বসন্তের বিক্ষোভের পর আল-আসাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু দ্রুত এ বিক্ষোভ সহিংসতায় নেমে আসে এবং পরে বিরোধী ব্যক্তিত্ব এবং বিক্ষোভকারীদের উপর ব্যাপক দমনপীড়নের পরে একটি প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বেশিরভাগ ভূমি এবং সমস্ত প্রধান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ পেতে  ইরান ও রাশিয়া আসাদ সরকারকে সহায়তার পরে বেশিরভাগ বড় লড়াই কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়।