দীর্ঘ ১২ বছর পর কোন্দলের অবসান কুলাউড়া বিএনপির

দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়া বিএনপির বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন। রবিবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ময়ূন বিবাদমান দুটি অংশকে নিয়ে তার বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ সময়ের বৈঠকে দুটি অংশের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য একে একে তিনি ধৈর্য্য সহকারে শুনেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে অংশ নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, শওকতুল ইসলাম শকু, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেন বাদশা, সমন্বয়ক মো.হেলু মিয়া, আনিসুজ্জামান বায়েস, উপজেলা বিএনপির নেতা রেদোয়ান খান, শামীম আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল মন্নান, বদরুজ্জামান সজল, ফাতু মিয়া, আলমগীর ভুঁইয়া, ফারুক আহমেদ পান্না, দেলোয়ার হোসেন, শামীম আহমেদ, আকদ্দস আলী, বদরুল হোসেন, আব্দুল জলিল জামাল, মুক্তা মিয়া, আজিজুর রহমান মনির, রফিক আহমেদ, শহীদুল হক প্রমুখ।

বৈঠকে জেলার আহ্বায়কের প্রতি আস্থা রেখে নেতৃবৃন্দরা বলেন, জেলা বিএনপির বিভক্তির কারণে আমরা উপজেলাও বিভক্ত ছিলাম। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কুলাউড়ায় আমরা একে অন্যের সাথে একসাথে বসতে পারিনি। দলকে তৃণমূলে সংগঠিত করা যায়নি। এমনকি সামাজিক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আমরা একে অন্যের সাথে খোলামেলা বসতে পারিনি। আজকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেওয়ায় আমাদের সুযোগ হয়েছে খোলামেলা কথা বলার। যা অতীতে এ সুযোগ আমরা পাইনি।

নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশ হচ্ছে দলে কোনো বিভেদ ও মতভেদ রাখা যাবে না। দল করতে হলে আমরা সবাই দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এবার সুযোগ হয়েছে দলকে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত শক্তিশালী করার। এরই মধ্যে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। 

তিনি বলেন, উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে প্রতিটি স্তরে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এখন থেকে দলে আর কোনো পকেটে কমিটি করা হবে না। স্বজন প্রীতি চলবে না। তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। 

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট হাসিনা পতনের আন্দোলন সংগ্রামে যেসকল নেতৃবৃন্দ জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদেরকে প্রাধান্য দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। সে জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভায় প্রতিটি উপজেলার সমন্বয়কারী টিমদের এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলকে সুন্দর সুষ্ঠুভাবে কর্মীসভা করে প্রতিটি স্তরে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।