চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের কাছে শুঁটকি অত্যন্ত প্রিয় খাবার। ফলে বিদেশের বাজারেও দিন দিন শুঁটকির কদর বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি সরবরাহ করছেন। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত এই চার মাস শুঁটকির মৌসুম। এ সময় বাজারে মাছের মূল্য কম থাকায় বেশি পরিমাণে শুঁটকি তৈরি সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, কর্ণফুলীতে তৈরি সামুদ্রিক মাছের এই শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ব্রিটেন, আমেরিকা, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ভারতসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে যাচ্ছে। এতে কর্ণফুলীর শুঁটকির বাজারও শিল্প হয়ে উঠেছে। কর্ণফুলীর শিকলবাহা ও ডাঙ্গারচর এলাকা জুড়ে ২০টি মহলে কয়েকশ লোক শুঁটকি তৈরির কাজ করেন। এবছর ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি মৌসুমে দুই থেকে তিন কোটি টাকার শুঁটকি পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকেন বলে জানান উৎপাদনকারীরা।
আবহাওয়াজনিত কারণে কর্ণফুলীর তীরে প্রক্রিয়াজাত শুঁটকির স্বাদ ও গুণগত মানে অনন্য। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এ জন্য কাঁচা মাছকে দ্রুত শুঁটকিতে পরিণত করা যায়।
ডাঙ্গারচর এলাকার শুঁটকি মহালের ব্যবসায়ী আমির আহমেদ বলেন, ‘৭ বছর ধরে এখানে শুঁটকি ব্যবসা করছি। বছরে ৭ মাস শুঁটকি উৎপাদন করা গেলেও কাজ চলে ৬ মাস। তাও সাগরের মাছ শিকারের ওপর নির্ভর করে। আমার মহালে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। সাগরে মাছ বেশি পাওয়া গেলে শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ে। নদীরপাড়ের শুঁটকিগুলোতে শুধু লবণ ব্যবহার করা হয়। কোনো কেমিক্যাল এখানে ব্যবহার হয় না। তাই এই শুঁটকি বিষমুক্ত।’
কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র বলেন, ‘ কর্ণফুলীতে আধুনিকমানের শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পস্থাপন প্রকল্প এখনো হয়নি। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ শুঁটকি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’