প্লাস্টিক দূষণ রোধে হতাশা!

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ এক ভয়াবহ মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে। প্লাস্টিকের এই দূষণ একইসঙ্গে পরিবেশ ও প্রাণের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। ফলে মানব দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঘটনা বাড়ছে। যার কারণে প্রাণহন্তারক অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্লাস্টিক দূষণ এখনই বন্ধ করতে না পারলে এ ধরনের রোগের সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই প্লাস্টিক দূষণ কমাতে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

কিন্তু জাতিসংঘের বিশেষায়িত একটি কমিটির এই বৈঠক থেকে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি দেশগুলো।

জাতিসংঘের পঞ্চম আন্তঃসরকারি আলোচনাকারী কমিটির এই বৈঠকটি দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতদিন ধরে বৈঠক চলার পরও প্লাস্টিক দূষণ কমানোর উপযুক্ত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের বিষয়গুলোতে একমত হতে পারেননি ২০০ দেশের প্রতিনিধিরা। বহু আলোচনা ও দীর্ঘসূত্রতার পর রবিবার পানামা একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। যাতে সমর্থন দিয়েছিল ১০০টিরও বেশি। প্রস্তাবে বলা হয়, ক্রমান্বয়ে প্লাস্টিকের উৎপাদন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কিন্তু প্লাস্টিকের উৎপাদন কমানোর ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলো এতে একমত হয়নি। আবার তেল উৎপাদনকারী কিছু দেশ কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকেই মনোনিবেশের কথা বলেছে। যার ফলে, কার্যত ভেস্তে গেছে এই আলোচনা।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে আরও সময়ের প্রয়োজন। কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় অন্তরায় রয়ে গেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের বিশেষজ্ঞ এরিক লিনডেবজার্গ বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার জন্য কী করতে হবে আমরা সবাই জানি। ফলে এ নিয়ে আলোচনার থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তবে বৈঠকটির সভাপতি লুইস ভায়াস ভালদিভিয়েসো অবশ্য এখনো আশাবাদী। তিনি বলেছেন, আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয়েছি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতৈক্য প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ এ বিষয়ে আবারও আলোচনায় বসার কথা জানান তিনি।

আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও, বৈঠকে যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে যে দেশগুলো তেল উৎপাদন করে, তারা প্লাস্টিক উৎপাদন বন্ধের ক্ষেত্রে একমত হচ্ছে না। এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্লাস্টিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশ হলো ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে প্লাস্টিক উৎপাদন বন্ধ করা নিয়ে ভারতের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্টরা ভেবেছিলেন, এতগুলো রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কর্মসূচি ও প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই সহমতে পৌঁছানো যায়নি।