গবেষণাগার থেকে বের হওয়া জীবাণুর মাধ্যমে কভিড-১৯ মহামারীর বিস্তার ঘটেছে বলে চর্চিত তত্ত্বটিকে সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। গত সোমবার কংগ্রেসের একটি কমিটি করোনাভাইরাস মহামারীর কারণ হিসেবে গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ‘সিলেক্ট সাবকমিটি অন দ্য করোনাভাইরাস ক্রাইসিস’ জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, করোনাভাইরাস সম্ভবত একটি গবেষণা সম্পর্কিত দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট হয়েছিল। ৫২০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন দুবছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মহামারীর উৎস এর প্রতিক্রিয়া এবং টিকাদানের প্রচেষ্টাসহ ফেডারেল এবং রাজ্য পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান ব্র্যাড ওয়েনস্ট্রুপ কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ‘এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে পরবর্তী মহামারী পূর্বাভাস, প্রস্তুতি, সুরক্ষায় প্রস্তুতি ও পরবর্তী মহামারী প্রতিরোধে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটির মূল সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটিতে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভাবের আগে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে গবেষণার সময় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে, কমিটি দুবছর ধরে ২৫টি বৈঠক করেছে এবং ৩০টিরও বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে ১০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার বিভিন্ন দলিল পর্যালোচনা করে গবেষণাগার থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের কেন্দ্রস্থল উহানে কভিড-১৯-এর জীবাণু প্রথম শনাক্ত করা হয়। এরপর ভাইরাসটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ৭০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা কভিড-১৯ এর উৎস নির্ধারণের চেষ্টা করলেও কোনো মতানৈক্য হয়নি। অনেকে বিশ্বাস করেন, ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের এক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভাইরাসটি সম্ভবত গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা এফবিআইও একই ধরনের দাবি করেছিল।
কংগ্রেসের কমিটির তদন্ত এই বিষয়টিও খুঁজে পেয়েছে যে, লকডাউন ব্যবস্থা ভালোর থেকে ক্ষতি করেছে বেশি। এমনকি বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার বিষয়টি কভিড ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে অকার্যকর ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব ও ভ্রমণ সীমাবদ্ধতার উদ্যোগ জীবন রক্ষা করেছে।