দ. কোরিয়ায় প্রেসিডেন্টের সামরিক আইনের ঘোষণা পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যান

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারির বিপক্ষে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন উপস্থিত ছিলেন। এসময় সবাই সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবিতে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

এর আগে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে সামরিক আইন জারি করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োল। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্টের বিস্ময়কর পদক্ষেপের কর্তৃত্ববাদী নেতাদের যুগে ফিরে গেছে দেশটি। যা ১৯৮০’র দশকের পর এমন অবস্থা দেখেনি দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ।

প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পরপরই জাতীয় পরিষদের স্পিকার তার ইউটিউব চ্যানেলে এক জরুরি বিবৃতিতে সব আইনপ্রণেতাদের জাতীয় পরিষদে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শান্ত থাকার এবং তাদের অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

কয়েক ঘণ্টা পর পার্লামেন্টে সামরিক আইনের ঘোষণাটি প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট হয়। এরপরই জাতীয় পরিষদের স্পিকার উ ওন শিক ঘোষণা দেন, আইন প্রণেতারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করবেন। স্পিকার পার্লামেন্টের মাঠ থেকে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

টেলিভিশনের এক ফুটেজে দেখা গেছে, পার্লামেন্টে মোতায়েন সেনারা ভোটাভুটির পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে টেলিভিশনে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রবেশ পথ আটকে দিচ্ছেন এবং হেলমেট পরিহিত সৈন্যরা ভবনের সামনে রাইফেল নিয়ে ভবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী পার্লামেন্ট ও অন্যান্য রাজনৈতিক সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এতে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

সেনাবাহিনী বলেছে, ডিক্রি অমান্যকারী যে কাউকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা যেতে পারে।

সেনাবাহিনী আরও বলেছে, দেশটির ধর্মঘটরত চিকিৎসকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজে ফিরতে হবে। তারা মেডিকেল স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার চিকিৎসক ধর্মঘট করছেন। 

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা যায়।