উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র পরীক্ষা, জবাবে ড্রোন বাহিনী গড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

উত্তর কোরিয়া নতুন করে একাধিক উন্নত অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরও ‘মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সক্ষমতা’ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপক পরিসরে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, কিম জং উন আগের দিন অস্ত্র পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে এমন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে যাতে শত্রুরা সবসময় আতঙ্কে থাকে এবং হামলার সাহস না পায়।

পরীক্ষা চালানো অস্ত্রের মধ্যে ছিল বিশেষ মিশনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড, বাড়তি পাল্লার উন্নত রকেট লঞ্চার এবং স্বচালিত হাউইটজার কামান। কেসিএনএর দাবি, নতুন ওয়ারহেড শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ আঘাত হানতে সক্ষম।

কিম বলেন, উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ও দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র তৈরিতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উন্নয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গ্যু-ব্যাক বলেন, পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যারা ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো সহজে ড্রোন পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। তাই পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে প্রায় ছয়শ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পাঁচটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা দুই হাজার উনিশ সালে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তার সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত