দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইওল জরুরি সামরিক আইন জারির পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ১৯৮০’র দশকের পর এমন পরিস্থিতি দেখেনি দেশটির জনগণ।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবিতে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এর আগে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে সামরিক আইন জারি করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োল।
টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার হুমকি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন এবং বিরোধীদের রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্টের বিস্ময়কর পদক্ষেপের কর্তৃত্ববাদী নেতাদের যুগে ফিরে গেছে দেশটি। ইয়ুনের ঘোষণার পর সামরিক বাহিনী সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে এবং সব গণমাধ্যমকে মার্শাল ল কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে আনাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
যেসব ঘটনা দেশটিকে সামরিক আইন ঘোষণার দিকে পরিচালিত করেছে তার একটি টাইমলাইন:
১১ এপ্রিল: ৩০০ আসনের পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশের বেশি পেয়ে বিরোধী দলগুলো জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে জয়ী।
৯ মে: ২০২২ সালে অবৈধভাবে একটি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ গ্রহণের অভিযোগের পর প্রেসিডেন্ট ইয়ুন তার স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি কিম কিওন-হির পক্ষে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন।
২৭ আগস্ট: ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য বীমা ব্যয় এবং পেনশনসহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইয়ুনের সরকার ৬৭৭.৪ ট্রিলিয়ন ওন (৪৮৩ বিলিয়ন ডলার) বাজেট প্রস্তাব করেছে।
২৫ অক্টোবর: ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য মস্কোকে সেনা সরবরাহের অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য রাশিয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।
২৫ নভেম্বর: দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) প্রধান লি জায়ে-মিউংকে বেকসুর খালাস।
২৬ নভেম্বর: প্রেসিডেন্ট ইয়ুন তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বিশেষ কৌঁসুলি তদন্তের আহ্বান জানিয়ে একটি বিলে ভেটো দেন। তৃতীয়বারের মতো তিনি বিরোধী নেতৃত্বাধীন বিলটি প্রত্যাখ্যান করেন।
২৯ নভেম্বর: বিরোধীরা ইয়ুনের প্রস্তাবিত বাজেট পরিকল্পনা থেকে প্রায় ৪.১ ট্রিলিয়ন ওন (২.৮ বিলিয়ন ডলার) কমিয়েছে। এরজন্য ইয়ুনের অফিস, প্রসিকিউশন, পুলিশ এবং রাজ্য নিরীক্ষা সংস্থার জন্য সরকারের রিজার্ভ তহবিল এবং কার্যকলাপ বাজেট কাটছাঁট করা হয়। ইয়ুনের ক্ষমতাসীন পিপলস পাওয়ার পার্টি এই পদক্ষেপকে ‘প্রসিকিউশন, পুলিশ এবং রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা সংস্থার কাজকে দুর্বল করে তোলা’ বলে নিন্দা জানায়।
২ ডিসেম্বর: প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি তিন শীর্ষ কৌঁসুলিকে অভিশংসনের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব জমা দেয়। রক্ষণশীলরা এটিকে ডেমোক্র্যাট নেতা লির বিরুদ্ধে তাদের ফৌজদারি তদন্তের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছে, যাকে ২০২৭ সালের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জনমত জরিপে ফেভারিট হিসাবে দেখা হচ্ছে।
২ ডিসেম্বর: জরিপকারী রিয়েলমিটারের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইয়ুনের জনপ্রিয়তা ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
৩ ডিসেম্বর: জরুরি সামরিক আইন জারি করে ইয়ুন বলেন, তিনি সামরিক আইনের মাধ্যমে একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশ পুনর্গঠন করবেন।