জ্যামাইকা টেস্ট জয়ের অসম্ভব এক স্বপ্নকে বাস্তবের খুব কাছাকাছি এনে দিয়েছেন জাকের আলি অনিক। তার ৯১ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ পৌঁছেছে ২৬৮ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৪ রানের লিড থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৮৭ রান।
৯৪ বছর আগে, অর্থাৎ ১৯৩০ সালে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেটে ৪০৮ রান করার পর ম্যাচটা ড্র হয়েছিল। সেই টাইমলেস টেস্টের যুগে ম্যাচটা ছয় দিন মাঠে গড়ানোর পরও ড্র হয়েছিল কারণ টানা দুদিনের বৃষ্টি মাঠটাকে খেলার অনুপযোগী করে তুলেছিল। সেই দিন আর নেই, তাই তো চতুর্থ ইনিংসে ২৮৭ রান এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হিমালয়ে চড়ার মতোই কঠিন। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে যে দলটা ১৪৬ রানে অলআউট হয়েছে, তাদের জন্য তো বটেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লিডটা বড় করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন জাকের। টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেছেন। তবে ওসব ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, জাকেরের আগ্রাসী ব্যাটিং বাংলাদেশকে সত্যিকারের জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছে। ৭ উইকেট পতনের পরই জাকের বুঝে যান এখানে ধরে নয়, মেরেই খেলে রান বাড়িয়ে নিতে হবে কারণ অন্যপ্রান্তে ভরসা করার কেউ নেই। ৯১ রানের ইনিংসে ৫টা ছক্কা মেরেছেন জাকের, সবই অন্যপ্রান্তে টেলএন্ডারদের রেখে, নিজের হাফসেঞ্চুরির পর দ্রুত দলের রান বাড়াতে চালিয়েই খেলেছেন জাকের। আউটও হয়েছেন উড়িয়ে মারতে গিয়েই, ৯১ রানে থেকে সেঞ্চুরির জন্য খোলসবন্দি হননি। কিছুটা দুর্ভাগ্য জাকেরের, শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে আসা মমিনুল হক আরও একবার শূন্য রানে আউট হয়ে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। তাই অন্যপাশে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ আর নাহিদ রানা; তিন পেসারকে নিয়েই বেশিক্ষণ ব্যাট করতে হয়েছে। তাইজুল ছাড়া কেউ আর ওভাবে সঙ্গ দিতে পারলেন
কোথায় জাকেরকে?
ফাস্ট বোলিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশের বাকি ৫ উইকেট তুলে নেয় স্বাগতিকরা, তবে তার আগে বাংলাদেশ যোগ করে নেয় ৭৫টি মূল্যবান রান। এরপর ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নতুন বল হাতে শুরু করেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। উইকেটের ফাটলে পড়ে বল খানিকটা অপ্রত্যাশিত আচরণ করছিল, কখনো আচমকা বাঁক নিচ্ছিল, কখনোবা গড়িয়ে আসছিল। মধ্যাহ্ন বিরতির আগের ওভারটায় তাইজুল ইসলামকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় বলেই পেয়ে যান সাফল্য। মিকাইল লুইস বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে যান, বল তার জুতায় লেগে উঠে যায় আর শর্ট লেগে দাঁড়ানো শাহাদাত হোসেন দীপু বলটা লুফে নেন। মিকাইল (৬) ভেবেছিলেন বাম্প বল, আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা বাংলাদেশের আপিলে শরণ নিলেন থার্ড আম্পায়ারের। টিভি রিপ্লে দেখাল বল তার জুতার ভেতরের অংশে লেগে তারপর হাওয়ায় ভেসে জমা পড়েছে দীপুর হাতে।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। একটু খরুচে হয়ে যাচ্ছিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার, কিছু আলগা বল দিচ্ছিলেন। কেসি কার্টিকে করা ওভারটায় অফ স্টাম্পের বাইরের চ্যানেল বরাবর বল করে গেছেন, পঞ্চম বলে কেসি (১৪) পা দিয়েছেন ফাঁদে। ব্যাটের কানা ছুঁইয়েছেন বলে, বাকি কাজটা করেছেন লিটন। এই সিরিজে চারবারের ভেতর তিনবারই তাসকিনের বলে আউট হলেন কেসি কার্টি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ১২১। ব্যাট করছিলেন হজ আর গ্রেভস। জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের দরকার ছিল ১৬৬ রান আর বাংলাদেশের ৬ উইকেট।