বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপের মতো ফেডারেশন কাপেও ত্রাতার ভূমিকায় তপু বর্মণ। বসুন্ধরা কিংসকে এই মৌসুমে বারবার বাঁচাচ্ছেন এই সেন্টারব্যাক। তবে গোল বাঁচিয়ে নয়, তপু কিংসকে এগিয়ে নিচ্ছেন বিপদের সময় গোলদাতার ভূমিকা নিয়ে। মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তপুর একমাত্র গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছে চ্যাম্পিয়ন কিংস।
মৌসুমের শুরুর দিনই গোলের দেখা পেয়েছিলেন তপু। সেটাও দলের ভীষণ প্রয়োজনের সময়ে। চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচে মোহামেডান এগিয়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচে তপুই ডেডলক ভাঙেন ৬২ মিনিটে মিগেলের কর্নার থেকে গোল করে। এরপর অবশ্য দলের জয়ে অবদান রাখেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মিগেল নিজেই। সেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় আবারও জাগলেন মঙ্গলবার। এবার ৬৯ মিনিটে মিগেলের বলের জোগানকে প্রতিপক্ষের পোস্টে পৌঁছে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।
এই মাঠে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে হয়েছে অনেক নাটক। দুদিন আগে এখানে ছিল ক্রিকেট পিচ। সেটা তোলার পর মাঠ ফুটবলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন চেয়েছিল ম্যাচটা ময়মনসিংহে আয়োজন করতে। তবে ব্রাদার্স বেঁকে বসে। তারা আসলে চেয়েছিল বাজে মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিংসকে বিপদে ফেলতে। ম্যাচে বড় একটা সময় সেটা করতে পেরেছিল গোপীবাগের দলটি। নিজেদের ঘর সামলে উল্টো তারা বারবার কিংসের রক্ষণে হানা দেয়। ৩৪ মিনিটে গোলও পেতে পারত ব্রাদার্স। তাদের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড জাকারিয়া দারবোয়ের ভাগ্য খারাপ। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তার ফ্রিকিক গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সে যাত্রায় বড় বাঁচা বেঁচে যায় বসুন্ধরা কিংস। ব্রাদার্সকে পেছনে ফেলতে কিংসও ছিল মরিয়া। তবে প্রথমার্ধে পাঁজরে ব্যথা পেয়ে রাকিব হোসেনকে মাঠ ছাড়তে হলে তাদের আক্রমণে ভাটা পড়ে।
বিরতি থেকে ফিরে প্রান্ত বদলানো কিংসের আক্রমণের ধার বেড়েছিল অনেক। তবে তাদের ফরোয়ার্ডরা কোনো অবস্থাতেই পাচ্ছিলেন না পোস্টের দেখা। তপুকে অবশ্য শুরু থেকেই দেখা যায় আক্রমণে উঠে খেলতে। এ রকমই একটা আক্রমণ থেকে ৬৯ মিনিটে গোল করেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বাঁ দিক থেকে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলমুখে ক্রস ফেলেছিলেন মিগেল। তাতে ঠিকঠাক কানেক্ট করতে পারেননি রাকিবের বদলি হয়ে নামা শেখ মোরসালিন। তবে বল শূন্যে ভেসে চলে যায় আনমার্কড তপুর কাছে। নিখুঁত হেডে বল পোস্টে জমা করেন চ্যালেঞ্জ কাপেও দলের হয়ে গোল করা তপু। শেষ পর্যন্ত এই গোল ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে কিংস।
ছোট বক্সে তপু কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তা এই মৌসুমে ভালোই বোঝা যাচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে ৬ গোল করা এই সেন্টারব্যাকের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে স্বীকৃত ফরোয়ার্ডদের। অভিজ্ঞ এই সেন্টারব্যাক এমন পারফরম্যান্সের জন্য নিজের অভিজ্ঞতাকে এগিয়ে রাখছেন, ‘সর্বপ্রথম আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দেখবেন এই মৌসুমে নিয়মিত গোল করব। আমার লক্ষ্য প্রতি তিন ম্যাচে দুটি করে গোল করা (হাসি)।’ গোল করার দায়িত্ব তার নয়। যাদের দায়িত্ব তারা গতকাল ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের গোল করার ক্ষমতা প্রসঙ্গে তপু বলেন, ‘সঠিক পজিশনটা নিতে হয় গোল করতে হলে। আমি ডিফেন্ডার হলেও এটা বুঝি যে কোন পজিশনে গেলে গোল করার সুযোগ তৈরি হবে। এই গোলের মুভটাই যদি দেখেন, আমি জোনাথনকে বল দিয়েই দৌড়ে বক্সে ঢুকে যাই। জোনাথন বলটা মিগেলকে দেয়। সে ক্রস ফেলে। উচিত ছিল সেটা মোরসালিনের ফিনিশ করা। তবে সে পারেনি। আমার কাছে চলে আসতেই হেড করে গোল করি। এখানে যেটা হয়েছে, কোচের একটা নির্দেশনা ছিল যদি স্পেস পাই তবে যেন বল নিয়ে সামনে অগ্রসর হই। এই ম্যাচে ব্রাদার্স অনেক বেশি রক্ষণাত্মক খেলছিল। ফলে আমার সামনে স্পেস তৈরি হওয়ায় চেষ্টা করেছি আক্রমণভাগকে সহায়তা করার।’