তাইজুল দেখিয়ে দিলেন, বিদেশের মাটিতেও তিনি কার্যকর

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাত্র ২ উইকেট শিকার করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। তাই জ্যামাইকা টেস্টে বাদ পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। জ্যামাইকার সাবিনা পার্কের উইকেট বেশ কঠিন ছিল। বল গ্রিপ করছিল, টার্ন তো ছিলই। এমন কন্ডিশনেই বাংলাদেশের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন তাইজুল। দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠল তার হাতে।

জ্যামাইকা টেস্টের শেষ ইনিংসে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেন তাইজুল। এটা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার। এছাড়া ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ১৩০ মিনিট ক্রিজে কাটান, দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ মিনিট। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও তার ৬৬ বলে ১৬ ও ৫০ বলে ১৪ রানের ইনিংস দুটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দুই বিভাগে ভূমিকা রাখাতেই তাকে ম্যাচসেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

পুরস্কার গ্রহণ করে তাইজুল বললেন, দলের চাহিদা মেটাতে পেরে তিনি খুশি, ‘আমার বোলিং নিয়ে অবশ্যই বলতে পারেন আমি সন্তুষ্ট। কারণ দলের যখন যেটা চাওয়া ছিল, পূরণ করতে পেরেছি এবং এই ম্যাচে যখন চতুর্থ ইনিংসে বোলিং করতে এসেছি, আমার ওপর সবার একটা বড় চাওয়া ছিল। সেটা সফল করতে পেরেছি এবং এটায় ভালো অনুভব করছি।’

নিয়মিত অধিনায়ক ও অভিজ্ঞদের ছাড়া বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দলের জয় ও সিরিজ ড্র করতে পেরে বেশ তৃপ্ত তাইজুল, ‘অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশ দলের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। কারণ, এই দলে বেশ কিছু তরুণ ছেলে ছিল। কিছু লোক ছিল যারা ৮-১০ বছর ধরে খেলছে। তবে দলের বেশির ভাগই ছিল তরুণ। সবার মধ্যে ওই ব্যাপারটা ছিল যে, ম্যাচ জিতব। সবাই যে চেষ্টা করেছে, এটা অসাধারণ ও অতুলনীয়।’

দলের বোলিং আক্রমণ নিয়েই তাইজুল গর্ববোধ করেন, ‘কন্ডিশন আমাদের জন্য কঠিন ছিল। বাইরের কন্ডিশনে এসে ম্যাচ জিততে পারাটাও দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এটা গর্বের ব্যাপার। আমাদের যে পেস আক্রমণ ও স্পিন আক্রমণ এখন আছে, আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই খেলে আসছি এবং সবারই ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা অবশ্যই বিশ্বের যে কোনো দলের (বোলিং আক্রমণের) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’