সেই গত আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের ম্যাচে ১৩৮ রানের দু্র্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন, তারপর ফের হারিয়ে গেছেন লিটন কুমার দাস। বছরের শেষ টেস্ট ম্যাচ পর্যন্ত কোনো ফরম্যাটেই তার কোনো ফিফটি নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ১৫ বছর পর টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। তাতে ব্যাট হাতে লিটনের অবদান সামান্যই।
ব্যাটিং নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভুগছে বাংলাদেশ। আর লিটনের ভোগান্তি তো স্বাভাবিক ব্যাপার। একটি ভালো ইনিংস খেলার পর আরেকটির জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকতে হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই সিরিজের পর ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের চার ইনিংসে তিনি করেছেন যথাক্রমে ২২, ১, ১৩ এবং ১ রান। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে যথাক্রমে ৪, ১৪ এবং ৪২ রান তার ব্যাট থেক এসেছে।
এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি টেস্টে করেন ১ এবং ৭ রান! এরপর জ্বরের কারণে তিনি ছিটকে যান। সুস্থ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম দুই টেস্টে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ যথাক্রমে- ৪০, ২২, ১ এবং ২৫! অর্থাৎ, ৪ ইনিংস ব্যাট করে তার মোট সংগ্রহ ২২ গড়ে ৮৮ রান। যেখানে তার টেস্ট ক্যারিয়ার গড় ৩৪। কিন্তু লিটনের মানের ব্যাটারের সঙ্গে এসব পরিসংখ্যান মোটেও মানানসই নয়।
লিটনের ইনিংসগুলো দেখলেই বোঝা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেট হয়েও উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন। মনোসংযোগের পাশাপাশি ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব। নতুন কোচিং স্টাফ এসেছে, সহকারী কোচ একজন বাংলাদেশি; তাই লিটনের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা এখন জরুরি। লিটন ফর্মে ফিরলে, ধারাবাহিকভাবে রান করলে সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যই সুখবর।