চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠে এক উড়োচিঠিতে। প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয় পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১০টার দিকে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির সুপারিশে স্থগিত করা হয়েছে পরীক্ষা।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে একটা উড়োচিঠি আসে। এতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে একটি নমুনা প্রশ্ন তুলে ধরে বলা হয় ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার সকল কোর্সে প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এই উড়োচিঠিতে কারো নাম ছিল না বলে জানা যায়।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রশ্নপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন মজুমদার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আসেন। এ সময় প্রশাসন সাংবাদিকতা বিভাগে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পায়। বিভাগের ৪র্থ বর্ষের সিএজে ৪১৯, কমপ্রিহেনসিভ কোর্সের (Comprehensive Course) প্রশ্নের সাথে উড়োচিঠিতে পাওয়া নমুনা প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়। এরপরে উপাচার্যের উপস্থিতিতে পরীক্ষা কমিটির সুপারিশে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছে। সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
ফাইনাল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা সমালোচনা। বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সাংবাদিকতা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এটা খুবই খারাপ কাজ হয়েছে। এখন একজনের এই অপরাধের শিকার হবে বাকি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বজনপ্রীতি কখনোই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান রওশন বলেন, পরীক্ষা কমিটি সুপারিশ করায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে ৷ পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিবেন।
চবি উপ উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা জরুরি সিন্ডিকেট ডেকেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।