বিশ্বকাপের এই মূল্য!

ইতিহাসে প্রথমবার বাংলাদেশের কোনো হকি দল নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপে খেলা। ওমানের মাসকটে জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম হয়ে আগামী বছর ভারতে জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ হকি দল। অনন্য এই অর্জন সঙ্গী করে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশের যুবারা। বিমানবন্দর থেকে দলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করাতে। সেখানেই দলকে দেওয়া হয় সংবর্ধনা ও অর্থ পুরস্কার। তবে পুরস্কারের অঙ্ক শুনে যে কেউ বিস্মিত হবেন। ১৮ খেলোয়াড় ও পাঁচ কোচ-কর্তার জন্য ফেডারেশন মোটে ৫ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ নিশ্চিত পুরস্কার হিসেবে জনপ্রতি মিলবে ২২ হাজার টাকারও কম!

এত বড় অর্জনের পর এমন বোনাসের চাপা কষ্ট নিয়েই খেলোয়াড়রা চলে গেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে এই বোনাস ঘোষণার আগের সময়টুকু তাদের জন্য ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। বিমানবন্দরেই তাদের জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। যেটা সচরাচর হকি খেলোয়াড়দের ভাগ্যে জোটে না। ছয় ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে তারা, হারিয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, ওমানের মতো দলগুলোকে। ড্র করেছে শক্তিশালী মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে। অল্পের জন্য সেমিফাইনাল মিস করলেও তারা বিশ্বকাপে খেলার মূল লক্ষ্য অর্জন করেছে। তাই বিমানবন্দরে তাদের ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এর সঙ্গে যদি বোনাসটা বলার মতো হতো, তবে অন্তত আক্ষেপ সঙ্গী হতো না ছেলেদের।

বোনাস মনমতো না জুটলেও খেলোয়াড়রা পেয়েছেন সেরা প্রস্তুতি নিয়ে আগামী বছর ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি। ফেডারেশন সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাহমুদ হাসান খান ফ্যালকন হলে প্রারম্ভিক বক্তব্যে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের এই সাফল্যে দেশবাসী গর্বিত। আমাদের মূল লক্ষ্য সিনিয়র বিশ্বকাপে খেলা। তোমরা সবসময় দলবদ্ধ হয়ে থাকবে। কোনো বদ অভ্যাসের সঙ্গে জড়াবে না, সর্বদা শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলবে। প্রথমবার আমরা যুব বিশ্বকাপে খেলব। প্রথমেই বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশা বাস্তবিক হবে না। আমরা আমাদের যথাসাধ্য ভালো পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করব। এবার তিন মাসের মতো অনুশীলন হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে যে এক বছর সময় রয়েছে তা যথেষ্ট। আমরা অন্তত মাস ছয়েকের অনুশীলনের ব্যবস্থা করব।’

জুনিয়র এশিয়া কাপের আগে দল বিকেএসপিতে আড়াই মাসের মতো ট্রেনিং করেছে। এ সময় দলের প্রত্যেককে দৈনিক মাত্র ৪০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। দলের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বিদেশি কোচ আনার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করার কথা বলেছেন সভাপতি। একই সঙ্গে নতুন অ্যাডহক কমিটি হকিকে এগিয়ে নিতে এবং ঘরোয়া হকি নিয়মিত মাঠে রাখতে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।