দক্ষিণ চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের নগর অংশে একটি বাস টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে কর্ণফুলী ব্রিজের পাশে একটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। জায়গা চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেছি। আশা করি এটি শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে।’
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) চন্দনাইশের উপজেলার কাশেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চন্দনাইশ উপজেলা, চন্দনাইশ পৌরসভা ও দোহাজারী পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ‘জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে জনসম্পৃক্ত কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। কেবল হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প করে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ যে নালা-খাল হাজার কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছে, তা যদি জনগণ দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন না রাখে তাহলে জলাবদ্ধতার সমস্যা কোনদিনও সমাধান হবে না। এ জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে হাঁটতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে নগরের খাল ও বড় নালাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। খাল খনন কর্মসূচি এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
চসিকের কার্যক্রম প্রসারের লক্ষ্যে ৪১টি ওয়ার্ডের বাইরের এলাকাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, এবং হেলদি সিটিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং প্রসেস চালু করে ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে নগরায়ন ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় যুগের চাহিদা মেটাতে চসিকের সীমানা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং জাপানের রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠক করেছি। তাদের সহায়তায় চট্টগ্রামকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করতে কাজ করছি।’
চন্দনাইশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চসিক মেয়র বলেন, ‘২০১৮ ও ২০২১ সালের নির্বাচনের সময়কালে চন্দনাইশের জনগণের নির্ভীক ভূমিকা রয়েছে। কোভিড-১৯ এর ভয় উপেক্ষা করে আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবু গণতন্ত্রের সংগ্রামে পিছু হটেননি।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তারা ১৬ বছর ধরে দুর্নীতি ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে। কিন্তু জনগণের শক্তি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি আমাদের আস্থা অটুট। আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে মেয়র ভবনে চলে আসুন। আমি আপনাদের পাশে আছি।’
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইখতিয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাড. মিজানুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা এমএ হাশেম রাজু, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক বাদশা, আবদুল মাবুদ, শফিকুল ইসলাম রাহি, জাহাঙ্গীর আলম, জসিম উদ্দিন, শহীদ খান, বাহার উদ্দিন, সাইফুল করিম, আরিফুর রহমান মারুফ, অলি হোসেন মুন্সি, মোরশেদুল আলম, জহিরুল আলম শহীদ, আবদুল মালেক, মজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান, নাজিম উদ্দীন, সেলিম উদ্দিন, মঞ্জুর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল মজিদ শাহ, আবু বক্কর, তরিকুল ইসলাম টুটুল, আজম খান, রবিউল হোসেন ছোটন, হেলাল উদ্দিন, মোনেয়ম খান, জাহাঙ্গীর, সেলিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ইসলাম প্রমুখ।