অ্যাডিলেডের হেডমাস্টার

প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেলেই চওড়া হয় ট্র্যাভিস হেডের ব্যাট। ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে ভারতের বিপক্ষে তার গড় বেশি, ৮ টেস্ট সেঞ্চুরির ২টা ভারতের বিপক্ষে আর ৩৪১৩ রানের মধ্যে ৯৫৫ রানই এসেছে ভারতের বিপক্ষে। অ্যাডিলেড তার ঘরের মাঠ, এখানে খেলতে নামলে ট্র্যাভিস হেড হয়ে ওঠেন অতিমানবীয়। ক্যারিয়ারসেরা ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন এখানেই, এই মাঠে খেলা ৭ টেস্টের ৯ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি আর ২ হাফসেঞ্চুরি। গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্টেও হেড অপ্রতিরোধ্য। ৯টা দিন-রাতের টেস্ট খেলেছেন হেড, ১৩ ইনিংসে ৩টা সেঞ্চুরি আর ২টা হাফসেঞ্চুরি। এভাবেই অ্যাডিলেড, ভারত আর গোলাপি বল; তিনটাই যখন মিলেছে একবিন্দুতে তখন ‘হেডমাস্টার’ তো ছড়ি ঘোরাবেনই! অ্যাডিলেডে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টে ট্র্যাভিস হেডের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৩৩৭ রান। হেড করেছেন ১৪০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে, দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ভারতের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১২৮ রান। ভারত পিছিয়ে আছে ২৯ রানে, দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রিশভ পান্ত (২৮*) ও নীতিশ কুমার রেড্ডি (১৫*)। ২ উইকেট করে নিয়েছেন প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ড, ১ উইকেট মিচেল স্টার্কের।

 ১ উইকেটে ৮৬ রানে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় ৩৯ রান করা নাথান ম্যাকশোয়ানিকে হারিয়ে। এরপর স্টিভেন স্মিথও মাত্র ২ রান করে বিদায় নিলে খানিকটা চাপে অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেন মিলে ৬৫ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। ৬৪ রানে লাবুশেন বিদায় নিলে উইকেটে আসেন মিচেল মার্শ, তার সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে মার্শের অবদান মাত্র ৯ আর ৩০ রানই করেন হেড! অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে ৭৪ রানের জুটিতেও ক্যারির অবদান ১৫ আর হেডের ৫৮! কেউই খুব একটা যোগ্য সংগত দিতে পারেননি ‘হেডমাস্টার’কে, তবে দলের দায়িত্বটা মাথায় নিয়ে হেড একাই লড়লেন। ৪ ছক্কা আর ১৭ বাউন্ডারিতে ১৪১ বলে ১৪০ রানের মারকুটে ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮৭.৩ ওভারে ৩৩৭ রান। জাসপ্রিত বুমরা ও মোহাম্মদ সিরাজ, দুজনেই নিয়েছেন ৪ উইকেট করে। হেডকে আউট করে সিরাজ বুনো উল্লাসে মাতলে ঘরের ছেলেকে এমন অপমান কি অ্যাডিলেডের দর্শক সইবে? প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শকের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে সিরাজকে।

পার্থে প্রথম ইনিংসে ০ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে যশস্বী জয়সওয়াল করেছিলেন সেঞ্চুরি। এবার অ্যাডিলেডে শূন্যের পিঠে সেঞ্চুরি নয়, ২৪ রান বসাতে পেরেছেন তরুণ এই ওপেনার। লোকেশ রাহুল ৭, শুবমান গিল ২৮, বিরাট কোহলি ১১ আর রোহিত শর্মা করেছেন ৬ রান। প্যাট কামিন্সের বলে রোহিত যেভাবে বোল্ড হলেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে গোলাপি বলে ভারতীয় অধিনায়ক চোখে সরষে ফুলই দেখছেন!

১২৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়েছে ভারত, এমন অবস্থায় দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি। তারা পিছিয়ে আছে ২৯ রানে। গোলাপি বলে ২ দিনে পড়ল ২৫ উইকেট। এমন ২২ গজে যে ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেন, তাকে হেডমাস্টার না বলে উপায় কী!