এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বের ড্রয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পড়েছে একই গ্রুপে। গতকাল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এএফসির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড্র অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পট-৪-এ। বাংলাদেশের নাম ওঠে সি গ্রুপে। অন্যদিকে পট-১-এ থাকা ভারত খেলবে সি গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে। এই গ্রুপের অন্য দুই দল হংকং ও সিঙ্গাপুর।
২০২৭ সৌদি আরব এশিয়ান কাপের জন্য আগামী বছর ২৫ মার্চ শুরু হবে বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বের খেলা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হবে তা। ছয় গ্রুপে ২৪টি দল অংশ নেবে বাছাইয়ে। এখান থেকে ছয়টি দল যোগ দেবে চূড়ান্ত পর্বে এর আগেই জায়গা করা ১৮ দলের সঙ্গে।
র্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্রুপের সবার নিচের দল। তারপরও প্রতিপক্ষ বিচারে বাংলাদেশ বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে। প্রতি গ্রুপে চারটি দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে ম্যাচ খেলবে। ছয় ম্যাচ শেষে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে চূড়ান্ত পর্বে। ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুরের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে জয়ের চেষ্টা করতেই পারে বাংলাদেশ। বাছাইয়ের ড্র হয়েছে ২৮ নভেম্বর এর ফিফা র্যাংকিং অনুযায়ী। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচেই খেলবে গ্রুপ ফেভারিট ভারতের বিপক্ষে তাদের মাঠে। এরপর ১০ জুন হোমে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। ৯ অক্টোবর নিজেদের মাঠে হংকংকে আতিথ্য দেওয়ার পর ১৪ জুন একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের মাঠে ফিরতি ম্যাচ জামালদের। ১৮ নভেম্বর ভারত আসবে বাংলাদেশে খেলতে। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচটি সিঙ্গাপুরে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ।
দীর্ঘ এই অভিযানে বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা থাকবেন কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ মাসেই এই কোচের সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে। চুক্তি নবায়ন হবে কি না, তা সময় বলে দেবে। তবে কোচ কাল ঠিকই ড্রয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘গ্রুপটি বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং আকর্ষণীয়। তিনটি দলই আমাদের প্রায় সমশক্তির। আমরা ছয় ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব এবং জয়ের সম্ভাবনা থাকবে।’ ড্রয়ে পট-১-এ সিরিয়া (ফিফা র্যাংকিং ৯৫), থাইল্যান্ড (৯৭), তাজিকিস্তান (১০৪), লেবানন (১১২), ভিয়েতনাম (১১৬) ও ভারত (১২৭) ছিল। কিন্তু ভারতকে পাওয়ায় খুশি কোচ, ‘এক নম্বর পটে আরও শক্তিশালী দল ছিল। আমরা ভারতকেই চাইছিলাম। এশিয়ান গেমসে ভারতের বিপক্ষে খেলেছি গত বছর। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সবসময় ব্যতিক্রম।’ অন্য দুই দলের বিপক্ষেও জয় পেতে আশাবাদী কাবরেরা, ‘দুই ও তিন নম্বর পটে সিঙ্গাপুর হংকংয়ের চেয়ে আরও দুই-তিনটি দল দুর্বল ছিল। তারা এসেছে সমস্যা নেই। আমরা প্রায় কাছাকাছি তাদের।’
হোম ম্যাচগুলো থেকে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে কাবরেরা মনে করেন বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকবে, ‘বিশ^কাপ বাছাইয়ে আমরা হোম ম্যাচে পয়েন্ট পেয়েছি ও ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি অনেক কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে। তাই এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে আমাদের লক্ষ্য থাকবে হোম ম্যাচে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া আর অ্যাওয়ে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। গ্রুপে সবাই সবার বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
নিজের চুক্তি নবায়নের ব্যাপারেও ইতিবাচক কাবরেরা, ‘এখনো ২০ দিন বাকি রয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার। আমাদের আলোচনা চলমান। আমি আশাবাদী বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার জন্য।’
জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ব্যক্তিগত কারণে এখন ডেনমার্ক আছেন। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ড্র প্রসঙ্গে জামাল বলেন, ‘আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে এশিয়া কাপে খেলার। এজন্য ৯ পয়েন্টের বেশি পেতে হবে।’
১৯৮০ সালে একবারই এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০২৩-এর এশিয়া কাপের জন্য ২০২২-এর বাছাইপর্বের তৃতীয় পর্বে বাহরাইন, মালয়েশিয়া, তুর্কমেনিস্তানÑ তিন দলের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশ।