জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে উৎপাদনে ফেরার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন উপজেলা শাখার আয়োজনে পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি কারখানার গেইটে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস, মূখপাত্র মাহমুদুল হাসান বিবেক, যুগ্ম-আহ্বায়ক আকুল মিয়া, সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাবের হোসেন বিপুল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জামালপুর, শেরপুরসহ উত্তরবঙ্গের ২১ জেলার যমুনার সারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সকল শিল্প কারখানা সাথে সুকৌশলে এই বৃহৎ কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। এ কারখানা থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এসব অপকর্ম ঢাকতে ফ্যাসিবাদ সরকার গত ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংকটের অজুহাতে সার কারখানা বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রায় ১১ মাস ধরে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, যমুনায় এক টন সার উৎপাদনে ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর দেশের বাইরে থেকে সেই সার আমদানি করতে প্রায় ১ লাখ টাকা লাগে। আমদানি নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশীয় শিল্পকে সচল রাখলে রাজস্বও বাড়বে। এতে সরকারকে ভর্তুকিও দিতে হবে না।
এ দিকে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার কমান্ডিং এরিয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সার সংকট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এ শিল্প কারখানা বাঁচাতে ও কমান্ডিং এরিয়ায় সার সংকটের শঙ্কা থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করে কারখানা চালুর দাবি জানান বক্তারা।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।