বাংলাদেশের কোনো প্রভু রাষ্ট্র নেই: যুবদল সভাপতি

কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের হাই কমিশনারের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ওই দেশের। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্র, সরকার সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমি এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি আমি এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।  

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের মাঠে ঢাকা থেকে ভারতের আগরতলা অভিমুখী  বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন-জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের লংমার্চে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হবে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের বাইরে আমাদের কোনো প্রভু নেই। আমরা বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে চিন্তা করি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতকে একটি বার্তা দিতে চাই। আপনারা বিগত সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনার সরকারকে আশ্রয় দিয়েছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন। এই ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা আপনাদের দেশে অবস্থান করছে। আমরা অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে বিচারের আওতায় আনার জন্য পরবর্তী সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমরা অনুরোধ জানাই, আপনারা ভারত সরকারকে বলেন শেখ হাসিনা ও তার দোসরদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।

যুবদল সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত স্বাধীন চেতাজাতি। আমরা বাংলাদেশের যে কোনো ভুখন্ড ও চক্রান্তের বিরদ্ধে সবসময় সোচ্চার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এদেশের জনগণ যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত আছে। বাংলাদেশের অখণ্ড স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি আমরা আপোসহীন। আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। লং মার্চের সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য কবির আহমেদ ভূইয়াসহ কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। লং মাচে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, হবিগঞ্জ সিলেট, মৌলভীবাজার, ফেনী কুমিল্লা চাঁদপুর সহ বিভিন্ন জেলার বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। 
 
এস এম জিলানী বলেন, ভারত নিজেকে সব সময় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বারবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আহ্বান করেছে। বারবার ষড়যন্ত্র করেছে। আমরা দেখেছি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বার বার ভারত নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে।  

তিনি বলেন, ভারত সীমান্তে একাধিকবার হাজার হাজার নিরীহ জনগণকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা ভারতের কাছে এই সীমান্ত হত্যা বন্ধ চাই।আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা আপনাদের কাছে দাবি করছি।আমরা বাংলাদেশের মানুষ সব সময় বন্ধুসুলভ আচরণ করি। কিন্তু পাশাপাশি আমরা পড়ছি আমাদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। বাংলাদেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে ইয়াবা-ফেনসিডিল সরবরাহ করছে ভারত। 

আখাউড়ার স্থলবন্দরের মাঠে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের লংমার্চের সভায় আনুমানিক ৪-৫ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তার জন্য স্থলবন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে দুই দেশের যাত্রীদের পায়ে হেঁটে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টে যেতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।