সৌদি আরব যে ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল ফিফার কংগ্রেসে ঘোষণা করা হয়েছে। আয়োজক হওয়ার দৌড়ে একমাত্র প্রার্থী ছিল সৌদি আরব। তবে আয়োজক নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকেরা।
সাধারণত ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ২১১ সদস্য দেশের ভোটের মাধ্যমে আয়োজক নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবার একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের লড়াই জমজমাট হয়। কিন্তু এবার ফিফা ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেয়। ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ একবারে নির্ধারণ করা হয়।
২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হবে তিন মহাদেশের ছয় দেশ স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, চিলি এবং প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ছিল নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে।
ফিফার এই প্রক্রিয়ায় ভোটের পরিবর্তে সদস্য দেশগুলোর কাছে দুই বিশ্বকাপের আয়োজকদের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। ফিফা জানায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে দুই আয়োজককেই সমর্থন এবং ‘না’ ভোট মানে উভয়ের বিরোধিতা।
ফিফার এই পদ্ধতিকে ‘আইন ভঙ্গ’ বলছেন সমালোচকেরা। সাধারণত ব্যালট ব্যবহার করে গোপন ভোটের মাধ্যমে আয়োজক নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার অনলাইন কংগ্রেসে ‘হাততালির মাধ্যমে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যালট ব্যবস্থা বাদ দেওয়া এবং একসঙ্গে দুই বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়নি ফিফা। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে, নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব কনফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল।
সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। নরওয়ে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আগেই অনলাইন কংগ্রেসে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া সুইডেনের একজন নাগরিক ফিফার সদর দপ্তরের বাইরে সৌদি আরবের আয়োজক হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এবারের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় আগ্রহ ছিল কম। ফিফার সদর দপ্তরে খুব বেশি সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি আয়োজক দেশগুলোর কোনো প্রতিনিধি কংগ্রেসে উপস্থিত হননি।
ফিফার নিয়ম ভাঙা ও বিতর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা চললেও সৌদি আরবের ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন এখন নিশ্চিত। আয়োজক দেশটির জন্য এটি এক বড় সাফল্য হলেও, মানবাধিকার ইস্যুতে বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না।