ঘোড়া ক্রীড়াবিদ নাকি সরঞ্জাম? বিবাদে আদালতে দুই সংস্থা

ক্রিকেটের মাঠে যেমন ব্যাট, বল, এবং স্টাম্প থাকে, তেমনি ঘোড়া ইকোয়েস্ট্রিয়ান খেলার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, ঘোড়াকে সরঞ্জাম হিসেবে গণ্য করা উচিত নাকি ক্রীড়াবিদ হিসেবে—এ বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজস্থান ইকোয়েস্ট্রিয়ান সংস্থা এবং ভারতীয় ইকোয়েস্ট্রিয়ান সংস্থার মধ্যে এই বিতর্ক বর্তমানে দিল্লি হাই কোর্টে চলছে।

রাজস্থান সংস্থার দাবির মধ্যে অন্যতম হল, ইকোয়েস্ট্রিয়ানে ঘোড়া যেমন একটি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনই অন্যান্য খেলায় যেমন বন্দুক বা জ্যাভলিন একটি সরঞ্জাম, ঘোড়াকেও সেই ধরনের হিসেবে গণ্য করা উচিত। তাদের যুক্তি হল, রোয়িং, শুটিং, বা সাইক্লিংয়ে যেমন সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়, ঘোড়াও সেই ধরনের একটি উপকরণ। রাজস্থানের পক্ষে মামলা করেছেন রঘুবেন্দ্র সিংহ।

তিনি বলেন, ‘ঘোড়া শুধু একটি সরঞ্জাম, যেমন সাইকেল, নৌকা বা শুটিংয়ের বন্দুক। আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, ঘোড়াকে নিয়মিত খাওয়ানো হয়।’

তবে ভারতীয় ইকোয়েস্ট্রিয়ান সংস্থার পক্ষ থেকে পুরোপুরি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ রয়েছে। সংস্থার সচিব কর্নেল জয়বীর সিংহ বলেছেন, ‘ঘোড়াকে শুধুই সরঞ্জাম মনে করা যায় না। ঘোড়াদের দেখভাল করার জন্য খরচ, চিকিৎসা, এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। শুধু রাজ্য সংস্থাগুলির পক্ষে এমন খরচ বহন করা সম্ভব নয়।’

ভারতীয় সংস্থার হয়ে মামলা লড়ছেন আইনজীবী জয়ন্ত মেহতা। তিনি যুক্তি দেন, ‘ঘোড়া শুধু একটি সরঞ্জাম নয়, বরং এদের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসক, আস্তাবল এবং খরচও প্রয়োজন। একটি রাজ্য সংস্থা এত কিছু করতে সক্ষম নয়। ঘোড়ার জন্য নানা ধরনের সমর্থন প্রয়োজন।’

রাজস্থান সংস্থা যে ঘোড়াকে সরঞ্জাম হিসেবে দাবি করছে, তা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘোড়া একটি জীবন্ত ক্রীড়াবিদ, এবং তাদের মেজাজ, আচরণ, ও পারফরম্যান্সের উপর পুরো খেলা নির্ভর করে। জয়ন্ত মেহতা আরও বলেন, ‘ঘোড়া বিদেশ থেকে আনার জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন, এবং তাদের জন্য চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যবস্থা করতে হয়। ঘোড়ার পারফরম্যান্সও তার নিজস্ব মেজাজের উপর নির্ভর করে, যা কোনো সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’

এই সমস্যার মধ্যে এক প্রাক্তন ক্রীড়াবিদও নিজেদের মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে অলিম্পিকে ঘোড়ার গলাতেই পদক পরানো হত। পরে খেলোয়াড়দের পদক দেওয়া হতে শুরু করে, কিন্তু ঘোড়াকে সবসময়ই ক্রীড়াবিদ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।’

প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের মতে, এ ধরনের মামলা থেকে দেশের ইকোয়েস্ট্রিয়ানের উন্নতি হয়ে যাবে না। বরং জাতীয় এবং রাজ্য সংস্থাগুলির উচিত একত্রে কাজ করে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাল সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে অলিম্পিকে পদক অর্জন সম্ভব হয়। এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন ঘোড়ার ও ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত প্রয়াস থেকে ভারতের ইকোয়েস্ট্রিয়ান খেলা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।