শীতে কাঁপছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম। পৌষের শীতে এই অঞ্চলের জনজীবন অনেকটা স্থবির। আবহাওয়া অফিস বলছে, রাজশাহী, পঞ্চগড়সহ দেশের তিন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও দুই-তিন দিন চলতে পারে। গতকাল শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে; এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, আরও দুই-তিন দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহের আরও বিস্তার হবে। কাল, (আজ) পরশু (কাল) তাপমাত্রা কমবে। এরপর তিন থেকে চার দিন বাড়ার পর আবার কমবে।
কুয়াশার কারণে শীত বেশি লাগবে।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে; তা অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এ সময় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৭ এবং চূয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করা হয়। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর দেশের সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারের টেকনাফে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে শীত জেঁকে বসেছে : কুড়িগ্রামে শীত জেঁকে বসেছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
কনকনে শীতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্ররা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সমগ্র জেলা।
গত ৪ দিন কুড়িগ্রামের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন
থাকায় দেখা মেলেনি সূর্যের। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীতার্ত মানুষের শীতবস্ত্র কেনার জন্য ২৭ লাখ টাকা ও ১২ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলাসমূহে বরাদ্দ দেওযা হয়েছে। সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কলেজ মোড় এলাকার মানিক বলেন, কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে খুব কুয়াশা ও ঠান্ডা।
ঠান্ডার কারণে এখানকার খেটে খাওয়া মানুষগুলো কষ্টে পড়েছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ আমার নজরে আসেনি। এখানে জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ দরকার।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার শিপন বলেন, কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালে বয়স্ক ও শিশুরা শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। আমরা যথাযথভাবে চিকিৎসা প্রদান করছি।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৫-১৬ তারিখের পর তাপমাত্রা আরও কমে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহ এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।
এদিকে পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে হালকা কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে বাড়ছে শীতের দাপট। এরপর রাতভর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় জনপদ। রাতে শিশির পড়ে। সকাল ৯টা পর্যন্ত হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হয়। এতে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, জেলার শীতার্ত গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে দুই হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আরও এক লাখ কম্বল চেয়ে দুর্যোগ অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে।