আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডানের তিনে তিন

শক্তিতে এগিয়ে থাকা মানেই অনায়াস জয়, অন্তত আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ নিয়ে এমনটা বলা একটু ঝুঁকিরই। চলতি মৌসুমে গতকাল প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরশত্রু। দেশি-বিদেশিতে ভরপুর মোহামেডানের বিপক্ষে আবাহনী নেমেছিল স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে। কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটাই হলো দারুণ জমজমাট। শেষ পর্যন্ত মোহামেডান ১-০ গোলে জিতলেও আবাহনী শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করেছে। এ নিয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে মোহামেডান ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় দিনের অপর ম্যাচে স্বাগতিকরা রহমতগঞ্জের জয়রথ থামিয়েছে ৪-০ গোলে জিতে। আগের ম্যাচে মোহামেডানের কাছে হারের ধাক্কা সামলেছে টানা পাঁচবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে মোহামেডান আছে সবার ওপরে। সাত পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ব্রাদার্স। ছয় পয়েন্ট করে আছে চার দলের। তবে গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় বসুন্ধরা কিংস পুলিশ, রহমতগঞ্জ ও আবাহনীর ওপরে। এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি ফকিরেরপুল, ওয়ান্ডারার্স ও চট্টগ্রাম আবাহনী।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতের লক্ষ্যভেদে লিড নিয়েছিল মোহামেডান। আবাহনী শেষ দিকে আক্রমণের সুনামি বইয়ে দেয়। একবার বলও জালে জড়িয়েছিল মারুফুল হকের দল। তবে অফসাইডে বাতিল হয় তা। ভাগ্য সঙ্গী হয়নি বলে এবারের লিগে প্রথম হারের স্বাদ পেতে হয় শতভাগ স্থানীয়দের নিয়ে দল গড়া আবাহনীকে।

চার বিদেশি নিয়ে মাঠে নামা মোহামেডান শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। আবাহনীর রক্ষণে চাপ ধরে রেখে তারা চেষ্টা করেছে গোলের। ফলে আবাহনীর জন্য আক্রমণে যাওয়া সহজ ছিল না। ম্যাচের ১২ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করে মোহামডান। সতীর্থের ক্রসে ইমানুয়েল সানডের প্লেসিং ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ইমানুয়েল টনির মধ্যমাঠ থেকে নেওয়া শট গোলকিপার মিতুল মারমা কোনোমতে আয়ত্তে নেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মোহামেডান পায় গোলের দেখা। সতীর্থের ক্রসে অনেকটা লাফিয়ে উঠে দিয়াবাতে হেড করে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

বিরতি থেকে ফিরেও আবাহনী আগ্রাসী হতে পারেনি। তবে দু’একবার প্রতি-আক্রমণ থেকে গোলের চেষ্টা করে বিফল হয়। উল্টো ৬৪ মিনিটে সানডের পাসে দিয়াবাতের শট পোস্টে বাধা না পেলে হারের ব্যবধান আরও বাড়ত। শেষ দিকে ম্যাচ অনেক জমে ওঠে। মরিয়া আবাহনী চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। যোগ করা সময়ে সুমন রেজার পাসে আরমান ফয়সাল আকাশের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। এরপরও বল সাদা-কালোদের বক্সেই দীর্ঘক্ষণ ঘোরাফেরা করেছে। তবে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের ১০ মিনিটে জোনাথন ফার্নান্দেজের সুযোগসন্ধানী গোলে লিড নেয় কিংস। দুই মিনিট পর অবশ্য ম্যাচে ফিরেছিল আগের দুই ম্যাচে জিতে আসা রহমতগঞ্জ। অভিজ্ঞ নাবিব নেওয়াজ জীবনের অসাধারণ ফ্রি কিক রুখতে পারেনি কিংসের মানব দেয়াল ও কিপার আনিসুর রহমান জিকো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কিংসের লিড পুনরুদ্ধার করেন মিগেল ফিগেইরা। পেনাল্টি থেকে সহজেই রহমতগঞ্জ কিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। এর আগে পেনাল্টিটা আদায়ও করেছিলেন কিংস অধিনায়ক। বিরতি থেকে ফিরে (৫৩ মিনিটে ) কিপার আহসান হাবিবের শিশুতোষ ভুলে আরও পিছিয়ে পড়ে রহমতগঞ্জ। মিগেলের থ্রু পাস ধরে বক্সের বেশ বাইরে থেকে ডান পায়ের শট নিয়েছিলেন জুনিয়র সোহেল রানা। সেটা রহমতগঞ্জ কিপারের গ্লাভস ফসকে যায়। গোললাইন অতিক্রমের আগেও সুযোগ ছিল সেটা রুখে দেওয়া। তবে আহসান হাবিব দিশেহারা হয়ে গোল ঠেকাতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মিগেলের জোরালো শট পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে এলে ব্যবধান বাড়েনি। তবে ৭৬ মিনিটে ঠিকই দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। হঠাৎ আক্রমণে উঠে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ক্রসে নিখুঁত হেডে লিগে গোলের খাতা খোলেন তপু। এর আগে বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ লিগ ও ফেডারেশন কাপেও গোল করে দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন এই ডিফেন্ডার।