শান্তর দুর্দান্ত ফেরা, তবে...

কুঁচকির চোট কাটিয়ে এক মাস পর মাঠে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্তর প্রত্যাবর্তন হয়েছে দুর্দান্ত। পরে ফিল্ডিংয়ে ফজলে মাহমুদ রাব্বীর দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার ঝড়ো ইনিংসটি বৃথা গেছে বরিশালের প্রথম জয়ে। রাজশাহী জিততে না পারলেও রংপুর ছুটে চলেছে অদম্য গতিতে। তারা পেয়েছে টানা তৃতীয় জয়। চট্টগ্রামও পেয়েছে সহজ জয়। আর ঘরের মাঠে টানা তিন ম্যাচেই হারের মুখ দেখল সিলেট। 

বৃথা গেল শান্তর ৮০

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে রাজশাহীর হয়ে খেলতে নেমে ৫৪ বলে ৮০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। সিলেট আউটার স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। শান্ত ও হাবিবুর রহমান সোহানের ৯.৫ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৯ রান। হাবিবুর ৩৩ বলে ৪৭ রান করে আউট হলেও শান্ত ছিলেন আক্রমণাত্মক। তিনি ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮০ রান করেন। ইনিংসের শেষ দিকে ফরহাদ রেজার ৬ বলে ১০ রানের ক্যামিওতে রাজশাহী ৫ উইকেটে তোলে ১৮৪ রান।

১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরিশাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। ওপেনার আব্দুল মজিদ (৩৯ বলে ৫৩) ও ইফতিখার হোসেন (২৪ বলে ৩৫) প্রথম উইকেট জুটিতে এনে দেন ৭৯ রান। এরপর ফজলে রাব্বি ৩৪ বলে ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। ১৯তম ওভারের শেষ বলে শফিকুল ইসলামের ডেলিভারিতে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। শেষ দিকে মঈন খানের ক্যামিও (৮ বলে ১৫) বরিশালকে জয় এনে দেয়।

বরিশাল জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকল। চোট কাটিয়ে শান্তর এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন জাতীয় দলের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও হারের ফলে রাজশাহীর জন্য ছিল হতাশার দিন।

চট্টগ্রামের সহজ জয়

দিনের আরেক ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৬.৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা। তাইবুর রহমানের ৪৩ বলে ৩০ রান ছাড়া বাকিরা দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ হন। চট্টগ্রামের বাঁহাতি পেসার ফাহাদ হোসেন ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের মাহমুদুল হাসান জয় (৩৭ বলে ৪৪) ও তামিম ইকবাল (২৯ বলে ২১) ১১ ওভারেই দলকে জয় এনে দেন।

নাটকীয় জয় ঢাকা মেট্রোর

খুলনার বিপক্ষে ১৮ ওভারের ম্যাচে ঢাকা মেট্রো ১৪৬ রানের পুঁজি পায়। ইমরানউজ্জামানের ২৮ বলে ৪৬ রান এবং ইনিংসের শেষ তিন বলে ৩ উইকেট হারানোর নাটকীয়তা এই ম্যাচের রোমাঞ্চ বাড়ায়। গত ম্যাচের মতো এদিনও নুরুল হাসান সোহানের আই বুলস থ্রো-এর শিকার হন ব্যাটসম্যানরা। তাই আরও একবার রান আউটের হ্যাটট্রিক দেখল এনসিএল টি-টোয়েন্টি। রান তাড়ায় খুলনার শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৮। তবে মেহেদী রানা ও জায়েদ উল্লাহ ১১ রান তুলতে পারেন। ঢাকা মেট্রো ৬ রানের জয় পায়। টানা তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল ঢাকা মেট্রো।

হেরেই চলেছে সিলেট

এনসিএল টি-টোয়েন্টির স্বাগতিক দল সিলেটের বিপক্ষে ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুর ১৫.৪ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতেছে। দলের পক্ষে নাঈম ইসলাম ৩৫ বলে ৫০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন। রংপুর টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। আর টানা তৃতীয় হার দেখল সিলেট।