জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টির গতকালের ম্যাচগুলোতে উত্তেজনার পারদ যেন আকাশ ছুঁয়েছে। মাঠে ছিল একের পর এক নাটকীয়তা। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির আক্ষেপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সালমান হোসেন ইমনের অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। আকবর আলীর দানবীয় ইনিংস আর নেতৃত্বে রংপুরের জয় যেন তাদের শিরোপার পথে অগ্রযাত্রার বার্তা। শেষ বেলায় ছিল জিশান আলমের বিধ্বংসী ইনিংস।
সালমানের ব্যাটে বরিশালের অবিশ্বাস্য জয়: চট্টগ্রামের ১৮২ রানের পাহাড় টপকাতে বরিশালের প্রয়োজন ছিল শেষ ওভারে ২৫ রান। এমন সমীকরণেও সালমান হোসেন ইমন অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে বরিশালকে এনে দেন ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়। চট্টগ্রামের ইরফান হোসেনের করা শেষ ওভারের প্রথম বল ডট হলেও পরের পাঁচ বলেই বাজিমাত করেন সালমান। তিন ছক্কা ও দুই চারের সঙ্গে একটি নো বলের সুবাদে ওভারে আসে ২৭ রান। ২৮ বলে ৫৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংসে তিনি অপরাজিত ছিলেন।
তামিম ইকবাল অবশ্য আগে ব্যাট করে চট্টগ্রামের হয়ে ৯১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। ৬ ছক্কা ও ৭ চারে সাজানো এ ইনিংস সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়েই থামে। কিন্তু তার এমন ব্যাটিং-শৈলীও দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। বরিশালের হয়ে ইফতেখার হোসেনের ৫৬ রানের ইনিংসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আকবরের দানবীয় ইনিংসে রংপুরের জয়রথ: রংপুরের জয়রথ ছুটছেই। রাজশাহীর ১৮৯ রানের লক্ষ্য ২ ওভার হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে তারা। অধিনায়ক আকবর আলী মাত্র ২৯ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। তাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন তানবির হায়দার, যিনি খেলেছেন ৪৫ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস।
রাজশাহীর ইনিংসে সাব্বির হোসেনের ৫২ বলে ৭৩ এবং গোলাম কিবরিয়ার ১৫ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে। তবে রংপুরের বোলার আলাউদ্দিন বাবু ও রিজওয়ানের ৩টি করে উইকেট শিকার এবং আকবর-তানবিরের জুটি রাজশাহীকে চাপে ফেলে দেয়।
জিশানের ঝড়ে প্রথম জয় সিলেটের : সিলেটের জয়ের নায়ক ছিলেন ওপেনার জিশান আলম। খুলনার দেওয়া ১৪৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮ বলে ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা। ইবাদত হোসেন ও নাবিল সামাদের বোলিংয়ে আগে খুলনাকে চাপে রেখেছিল সিলেট। খুলনার পক্ষে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের অপরাজিত ৪৮ রান দলকে কিছুটা ভরসা দিলেও তা যথেষ্ট হয়নি।
মেট্রোর জয়রথে নাইম-শামসুরের জুটি : ঢাকা ডার্বিতে মেট্রো জয় পেল ১৯ রানে। ওপেনার নাইম শেখ ৫৪ বলে ৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে মেট্রোকে বড় পুঁজি এনে দেন। তাকে সঙ্গ দেন শামসুর রহমান শুভ, যিনি খেলেছেন ২২ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
ঢাকা বিভাগের হয়ে রনি তালুকদার ১৯ বলে ৩৯ এবং আরিফুল ইসলাম ৩১ বলে ৪২ রান করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন। মেট্রোর হয়ে আনিসুল ইসলাম ৪ উইকেট নিয়ে ঢাকার ইনিংস ধসিয়ে দেন।