মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের হয়। এতে হাতে-মাথায় জাতীয় পতাকা, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেয় কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা। র্যালিটি টিএসসি, শাহবাগ মোড়, মৎস্য ভবন ঘুরে ফের শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
র্যালিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্যসচিব আরিফ সোহেলসহ নির্বাহী কমিটি, দপ্তর ও মিডিয়া সেলের সদস্য ও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা অংশ নেন। র্যালিটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত ছিল। র্যালির প্রথম সারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতরা ছিলেন। তার পরেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা ছিলেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিজয় র্যালিতে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনাারে খন্ড-খন্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সময় যত গড়ায় ততই ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণত শিক্ষার্থীরা বিজয় মিছিল শুরুর পূর্বে শহীদ মিনারে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে। এসময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেশত্মাবোধক গান বাজানো হয়।
পরে বেলা ১১টার দিকে শহীদ মিনার থেকে বিজয় র্যালিটি বের হয়। যেখানে র্যালিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ‘আজাদী’-৪৭, মুক্তিযুদ্ধ-৭১ এবং স্বাধীনতা-২৪ লেখা হয়েছে। এছাড়াও এতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে, ৭১ এসে ২৪-এ মিশে’ প্রভৃতি লেখা দেখা যায়। এছাড়াও মিছিলে ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘একাত্তরের শহীদেরা, লও লও লও সালাম’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়।
এছাড়াও র্যালিতে রিকশা নিয়ে আন্দোলত আহতরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম নামের একজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই র্যালিতে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। কারণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে আমি পা হারিয়েছি। এতে সাময়িক কষ্ট আছি কিন্তু এই বিজয় র্যালিতে আসতে পেরে আমার সেই কষ্ট লাঘব হয়েছে। দেশে আর কোন স্বৈরশাসক চাই না আমরা। দেশটা হোক সাম্য, শান্তি, মানবতার। যেখানে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেছেন, ‘৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামকে দীর্ঘ ৫৩ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের দলীয় ন্যারেটিবে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জনগণের চাপে স্বাধীনতার কথা বলতে বাধ্য হন। যুদ্ধের সময় ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বিদেশি প্রেসক্রিপশনে ‘৭২-এর সংবিধান রচনা করা হয়। ‘৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করে পরাধীন করা হয় দেশের মানুষকে। ‘২৪-এর আন্দোলনকারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’