অভিবাসনে বাণিজ্যের শর্ত ট্রাম্পের

অবৈধ অভিবাসীদের যেসব দেশ ফেরত নিতে চাইবে না, সেসব দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নেই এই কড়া পদক্ষেপ নেবেন বলে সতর্ক করলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনে ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, অভিবাসীরা যেসব দেশ থেকে এসেছে, সেসব দেশে তাদের ফেরত পাঠাবেন। যারা তাদের ফেরত নিতে চাইবে না তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করা হবে।

তিনি বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের (অবৈধ অভিবাসী) বের করে দিতে চাই। প্রতিটি দেশকেই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তারা যদি অভিবাসীদের ফিরিয়ে না নেয়, তাহলে আমরা সেসব দেশের সঙ্গে ব্যবসা করব না। তারা যখন পণ্য পাঠাবে, তখন তাদের চড়া শুল্ক দিতে হবে। আমাদের সঙ্গে তাদের ব্যবসা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিবাসী ইস্যুতে তার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গণহারে অভিবাসী বিতাড়নের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি নেবেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের কাজও শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি জারি করবেন। আর অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করবেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবার সেই অঙ্গীকারের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, অভিবাসী তাড়াতে তিনি সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাবেন। তবে দেশের আইনের সীমার মধ্যে থেকেই তা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ‘পোস্ট কমিটাস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, দেশের ভেতরে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, দেশে আগ্রাসন হলে এই আইনে সেনাবাহিনী ব্যবহারে কোনো বাধা থাকবে না। আমি এটাকে (অবৈধ অভিবাসী) আমাদের দেশে আগ্রাসন বলেই মনে করি। প্রয়োজন পড়লে আটককেন্দ্রও বানাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য যা করতে হয় করব। আমি কোনো পরোয়া করি না। যাই ঘটুক আমি তাদের বের করবই। যদি নতুন আটককেন্দ্রও প্রয়োজন হয়, আমি সেটি পুরোপুরি আইনের সীমার মধ্যে থেকেই করব।