গাজীপুর

ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী খুন, মোবাইলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার ৬ ছিনতাইকারী

গাজীপুরে ছিনতাইকারীদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ছয় ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন সিএনজি ও তাকওয়া পরিবহনের চালক এবং সহকারী। অপরজন চায়ের দোকানের নামে চোরাই মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়কারী।

গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকায় যাওয়ার পথে উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের হানিফ স্পিনিং মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহত তাজবির হোসেন শিহান উপজেলার মৌচাক জামতলা এলাকার তানভির হোসেন নান্নু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি  উত্তরার একটি কল সেন্টারে চাকরি করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তাকওয়া পরিবহনের চালক ময়মনসিংহ ধোবাউরা উপজেলার আমগাছীহান্দা গ্রামের হালিমউদ্দিন সরওয়ার হোসেন (২৮), সিএনজি চালক কুড়িগ্রাম রৌমারি উপজেলার কাশিয়াবাড়ি গ্রামের আলী আজগরের ছেলে নাজিম উদ্দিন (৩৫), সিএনজি চালক কুড়িগ্রাম ওলিপুর থানার মধুপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ফুল ইসলাম (৪২), আজমেরি বাসের হেলপার লক্ষ্মীপুর সদরের জামেরতলী গ্রামের মালেকের ছেলে জুয়েল (২৪), তাকওয়া বাসের স্টাফ জয়পুরহাটের মোহনপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. মিলন (২৭) ও চায়ের দোকানদার ভোলার চরফ্যাশনের সুলতান বয়াতির ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী তাজবীর হোসেন শিহান মৌচাক হানিফ স্পিনিং মিলের সামনে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। তারা নিহতের হাটুতে ছুরিকাঘাত করে তার মোবাইল ফোন, স্টুডেন্ট কার্ড, ভিসা কার্ডসহ মানিব্যাগ ও হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা হলে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

পুলিশ প্রথমে একটি চোরাই মোবাইলের কারবারি আনোয়ার হোসেনের থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর সোমবার রাতে সালনা, কোনাবাড়ি, বাসন ও টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চাওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) আমিনুল ইসলাম, কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ,  মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,  গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।