শেষ ওভারে রাজশাহীর প্রয়োজন ১৩ রান। ৬টি ছক্কা মারা তাওহীদ হৃদয় তখন স্ট্রাইকে। ৪ ওভারে ৫৫ রান নেওয়া রাজশাহীকে থামাবে কে! বোলিংয়ে নাঈম হাসান, আগের এক ওভারে যিনি গুনেছেন ১৭ রান। কিন্তু ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার সেই চিরন্তন ছবি ফুটে উঠল আবার। হৃদয়কে ছাপিয়ে শেষের নায়ক হয়ে গেলেন নাঈম!
প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দিলেন হৃদয়। নতুন ব্যাটসম্যান প্রীতম কুমার ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলই উড়িয়ে দিলেন ছক্কায়। নাঈম তৃতীয় বলে আবার আউট করে দিলেন প্রীতমকে। পরের বলে রানআউট নিহাদউজ্জামান। শেষ বলে ছক্কা মারতে হতো ফরহাদ রেজাকে। কিন্তু দারুণ বুদ্ধিমত্তায় তাকে আটকে দিলেন নাঈম। ৪ রানের জয়ে মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম।
সিলেট আউটার মাঠে আগে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রামের হয়ে তামিম ইকবালের জায়গায় ওপেনিংয়ের সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগান মুমিনুল। ৫ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ৩৬ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৫২ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে শাহাদাত ও মুমিনুলের সঙ্গে মাত্র ৩৩ বলে আসে ৭৩ রান। ২ চার, ৩ ছক্কায় ১৫ বলে ৩৫ রান করেন শাহাদাত। দুজনের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন ইরফান। শেষ ওভারে ফেরার আগে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি কিপার-ব্যাটসম্যান। নাঈমের সঙ্গে তার ২২ বলের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৪৬ রান।
বড় লক্ষ্যে শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় রাজশাহী। তিন নম্বরে নেমে সাব্বির হোসেনও টিকতে পারেননি। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন হাবিবুর রহমান। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ২০ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন তিনি। ফিফটি দিয়ে আসর শুরু করা ব্যাটসম্যান পরের চার ম্যাচেই স্পর্শ করলেন ৩০। প্রায় ১৬৩ স্ট্রাইক রেটে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১৫ রান এখন তার। এরপর জুটি বাঁধেন মুশফিক ও হৃদয়। ১০২ রানের জুটির পর মুশফিক (৩১ বলে ৪৬) বিদায় নিলেও, হৃদয় ছিলেন ১৯ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু শেষ কাজটা করে দিয়ে আসতে পারেননি। রাব্বির ঝড় সামলে মেট্রোর পাঁচে পাঁচ
অন্য ম্যাচেও ফল নির্ধারিত হয় শেষ ওভারে। ৬ বলে ২৪ রানের চাহিদায় মাহফুজুর রহমান রাব্বির অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে নাটকীয় জয়ের আশা জাগায় সিলেট। তবে শেষ পর্যন্ত পারেনি তারা। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ রানে জেতে ঢাকা মেট্রো। ১৫৭ তাড়া করতে নেমে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল সিলেট। শেষ ২ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৩৯ রান। সেই ম্যাচকেই জাগিয়ে তোলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বী। ৭ উইকেটে ১১৮ রান থেকে ১৯তম ওভারে ১৫ রান নিলে শেষ ৬ বলে তাদের দরকার পড়ে ২৪ রান। শহিদুল ইসলামের প্রথম ৫ বল থেকে রাব্বী ৩ ছক্কা ও ২ রান নিলে ম্যাচ উত্তেজনাকর অবস্থায় পৌঁছায়। শেষ বলে দরকার বাউন্ডারি। কিন্তু রাব্বী বাউন্ডারি মারতে পারেননি। দু রান নিয়ে আক্ষেপে পুড়তে দেখা যায় তাকে। ৩৯ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই পরাজয়ে জয়হীন সিলেট, যারা এনসিএল চার দিনের শিরোপা জিতেছিল, বিদায়ের শঙ্কায় পড়ল।
১১ বছর পর সিলেটেই বিজয়ের সেঞ্চুরি
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে বিজয় দিবস ক্রিকেটে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এনামুল হক বিজয়। এতদিন সেটিই ছিল তার একমাত্র টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। এত বছর পর সেখানে আরেকটি যোগ হলো একই মাঠেই। ইনিংস শুরু করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত খেলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন এনামুল। তার ৬৭ বলের ইনিংসে চার ১০টি, ছক্কা ৫টি। তার এই ইনিংসে খুলনা করে ৩ উইকেটে ১৮০।
রান তাড়ার ঢাকাকে চেপে ধরেন বাঁহাতি স্পিনার জায়েদ উল্লাহ। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই অভিষিক্ত ২১ বছর বয়সী স্পিনার ৪ ওভারে কেবল ১৩ রানে নেন ৩ উইকেট। চারে নেমে ২২ বলে ১৯ রান করে আরিফুল ইসলাম আউট হওয়ার সময় ১৩তম ওভারে ঢাকার সংগ্রহ ছিল ৭২/৪। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে দলকে খেলা জমিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তাইবুর রহমান ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তবে শুরুর ব্যাটসম্যানরা পরিস্থিতি এতই কঠিন করে তুলেছিলেন যে, এই দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়েও আসলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ঢাকা।