১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে পোস্টে বাংলাদেশের নামই বলেননি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেন। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এক পোস্টে ভারতের সাহসী সৈনিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়েছেন।
মোদির এমন বক্তব্যের জবাবে তার দেশেরই সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জে এন দীক্ষিতের লেখার উদ্ধৃতি টেনেছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেজে ‘ইতিহাসের তথ্য’ শীর্ষক ওই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেখানে মোদির বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে জেএন দীক্ষিতের বই থেকে যে লেখাগুলো তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো- “আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের সেনাপতিদের একটি প্রধান রাজনৈতিক ভুল ছিল যৌথ কমান্ডে বাংলাদেশের সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীকে উপস্থিত এবং তাকে একজন স্বাক্ষরকারী করতে না পারা।
“তার অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অজুহাত ছিল যে, তার হেলিকপ্টার উড়েছিল ঠিক, কিন্তু আত্মসমর্পণের সময়ের আগে ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। তবে, এক্ষেত্রে ব্যাপক সন্দেহ ছিল যে, তার হেলিকপ্টারকে নিরুদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছতে না পারেন এবং যেন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মনোযোগ কেবল ভারতীয় সেনাপতিদের ওপর থাকে।
“এটা ছিল একটা দুর্ভাগ্যজনক স্খলন, যা ভারত চাইলেই পরিহার করতে পারত। বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনা বহু ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর উপস্থিতি অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারত, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম দিনগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।”
তার লেখার উদ্ধৃতি শেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে: “আমরা ১৯৭১ সালের গৌরবময় বিজয়ের উদযাপন করি; আমরা উদযাপন করি সত্যের।”
কূটনীতিক জেএন দীক্ষিত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারতের প্রথম হাই কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে থেকে নতুন দেশের পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী হন তিনি।