বনমোরগের মতো
একটা সময়ের পর
আমার আর ঘুম আসে না।
আমি নিকষ অন্ধকারে তাকিয়ে থাকি।
মৃত্যুর দুয়ার থেকেও তো কত মানুষ ফিরে আসে!
যারা ফিরে আসে
তাদের বীরত্বগাথা গেয়ে
মানুষের ভিড় বাড়ে মাংসের দোকানে।
তোমার কথাও ভাবি।
এই নিকষ আঁধারে
এত উজ্জ্বলতা তুমি কীভাবে ধরে রাখো!
তোমার চুড়ির ঝনঝন শব্দের নিচে
মাথা পেতে রেখেছি।
জবাই হওয়ার আগে
বনমোরগের মতো আমিও কি
কককক করে ডাকতে পারব
ভোরের কোনো ডাক?
গ্রহণ করো
জনে জনে তোমাদের প্রত্যেকের কাছে
আমি গিয়েছিলাম
আমার কাটা মুন্ডু তুলে দিয়ে বলেছিলাম
গ্রহণ করো আর আমার শরীরকে মুক্তি দাও
তোমরা কেউ তা শোননি
আমার শরীরের সাথে আবার
জোড়া লাগিয়ে দিয়েছ মুন্ডু
কোথাও আমার মুক্তি নেই
যেদিকে বাতাস অবিচল
ফসলের ক্ষেতে-খালে বিলে তোমার চুলে
ছুটে চলি সেদিকে
আমার কাটামুন্ডু গ্রহণ করো, হে গৃহস্থ বউ
তোমার কোনো নবীন চারার সাথে
পুঁতে দাও উঠানের পাশে
আমি ও আমার শব্দগুলো
শব্দগুলো সংখ্যায় বাড়ছে কেবল
একটা ঢেউকেও অতিক্রম করে যেতে পারে না
শত শত পর্যটক
আর তাদের হারিয়ে যাওয়া শোরগোল
বালি খুঁড়লেই উপচে ওঠে তীরে
কেমন আছো প্রবাসী বন্ধুরা
হয়তো তোমরাই ভালো আছো
সমস্ত ঢেউ অতিক্রম করে গিয়েছ তোমরা
তোমাদের ওখানে তাই আর কোনো শব্দও নেই
শব্দের শানানো চাবুকের পাশে
দাঁত বের করে হাসতেও হয় না
আমি সাগরতীরে যাই
বালি খুঁড়ি আর অপেক্ষায় থাকি
যদি কোনো শব্দ আমাকে চিনতে পারে
বাজারে যাই
আর আমিও একটা নির্জীব শব্দ হয়ে
ঝুলে থাকি সবজির দোকানে
ভিন্ন গল্প
তোমার কি মনে আছে
মাছগুলোর তুমুল সাঁতারের পাশে
কত অসহায় ছিলাম আমি
মাছেদের কত খেয়াল কত মর্জি
তাদের স্বৈর প্রবণতার কাছে
নিতান্ত শিশুই ছিলাম আমি
আমি কি আর সাঁতার জানতাম
তবু কেন গভীরে নামলাম
তোমার পেছনে
দেখি তুমি নাই
আর আমাকে ঘিরে আছে দাঁতাল সব মাছেরা
হাঁ করে আছে সবাই
সত্যিই আমাকে গিলে ফেলল একটি মাছ
অন্ধকারে নাড়িভুঁড়িতে পেঁচিয়ে গেলাম
আসন্ন মৃত্যুর কাছে
আমি কোনো প্রার্থনা খুঁজে পাচ্ছিলাম না
তারপর কীভাবে বেঁচে ফিরলাম
সে-এক ভিন্ন গল্প
যে-গল্প তুমি কখনো-ই শুনতে চাও না