পারল না সিলেট, প্লে-অফে খুলনা

মঞ্চটা সাজানোই ছিল। দরকার ছিল শুধু শেষ ম্যাচ জেতা। কিন্তু সেটা পারেনি সিলেট। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং ঝড়ের পর রাজশাহীর কাছে হেরে গেছে তারা। ছিটকে গেছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি থেকে। কোয়ালিফায়ারে উন্নতির সুযোগ ছিল বরিশালের সামনেও। কিন্তু তারাও পারেনি। হেরে গেছে ঢাকা বিভাগের কাছে। মজার বিষয় হলো, জয়ী দল আর হেরে যাওয়া চার দল ছিটকে গেছে টুর্নামেন্ট থেকে।

তবে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে খুলনা। আর হেরেও শেষ চার নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম। প্লে-অফের বাকি দুটি দল হলো ঢাকা মেট্রো ও রংপুর। সবগুলো ম্যাচ জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষ দল হয়েছে মেট্রো। পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বর অবস্থান রংপুরের। প্লে-অফের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচেও মুখোমুখি হবে দুই দল।

সকালে সিলেট একাডেমি মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগ ১৭ রানে হারে ঢাকা মেট্রোর কাছে, ফলে তারা আটকে থাকে ৬ পয়েন্টেই। বিকেলে বরিশালকে ১৯ রানে হারায় ঢাকা, পয়েন্ট সমান হলেও চট্টগ্রামের রানরেট (০.২২০) ঢাকার (-০.৫৫২) চেয়ে ভালো থাকায় তারা এগিয়ে থাকে। শেষপর্যন্ত চট্টগ্রামই

তৃতীয় দল হিসেবে নিশ্চিত করেছে এলিমিনেটর ম্যাচ। আর খুলনা শেষ দল হিসেবে হয়েছে সাগরপাড়ের বিভাগটির প্রতিপক্ষ। উভয়ের পয়েন্টই ছয়।

যদিও চতুর্থ দল হিসেবে এই জায়গায় খেলার হাতছানি ছিল সিলেটের। কিন্তু জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। নিজের নাক না কাটলেও পরের যাত্রা ঠিকই ভঙ্গ করেছেন তিনি। প্রথমে ব্যাট হাতে ৪৮ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৮ রান করেন। তাতে তার দল পায় ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ। সেই রান তাড়ায় নেমে সিলেট থেমে যায় ১৫৫ রানে। যেখানে শান্ত ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাতেই সিলেটের প্লে-অফের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

রংপুর পাঁচ জয় নিয়ে আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল কোয়ালিফায়ার। খুলনার সঙ্গে তাদের শেষ ম্যাচটা ছিল শুধু নিয়মরক্ষার। তবে খুলনার কাছে ম্যাচটা ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াই তারা জিতে নিয়েছে। রংপুরকে ৩৪ রানে হারিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার চার নম্বর অর্জন করে এলিমিনেটর ম্যাচে স্থান করে নেয়। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দিনে খুলনায় তারুণ্য আর অভিজ্ঞের দাপট দেখেছে। যুব এশিয়া কাপের শিরোপাজয়ী দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম খেলেছেন ৪১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস। ৭ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। পরে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৯ বলে ৭১ রান করা মোহাম্মদ মিঠুন। আর শেষবেলায় ইমরুল কায়েসের চারটি ৪ ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে ৪০ রানের ক্যামিওতে খুলনা পায় ১৯৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ।

১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রংপুর থেমে যায় ১৬১ রানে। ১৪ ওভার ১২৪ রান করা রংপুর রান তাড়ায় কক্ষপথেই ছিল। ১৫তম ওভারে অধিনায়ক আকবর আলী ২৯ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৫২ রানের ইনিংস খেলে আউট হলে ম্যাচটি কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়। ম্যাচ হারলেও প্লে-অফ তাদের আগেই নিশ্চিত ছিল। জিতে খুলনা কক্ষপথে ফিরেছে।