হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-উপদেষ্টা জন ফিনার বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা তৈরি করছে। যা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে তুলতে পারে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘উদীয়মান হুমকি’ হয়ে উঠছে। জন ফিনার স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার এমন উদ্বেগের কথা জানান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, একসময় ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০২১ সালে পাকিস্তানের প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্ক কতটা অবনতি হয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় জন ফিনারের এমন কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে জন ফিনার বলেন, পাকিস্তান ক্রমবর্ধমানভাবে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ করে চলছে। এর মধ্যে আছে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম, যা দেশটিকে উল্লেখযোগ্য বড় রকেট মোটর পরীক্ষায় সক্ষম করে তুলবে। তিনি বলেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখবে পাকিস্তান। এই লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকবে। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও চীনের নাম উল্লেখ করে বাইডেন প্রশাসনের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারে এমন সক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্রধারী পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত দেশের সংখ্যা বিশ্বে খুব কম। এবং তারা ওয়াশিংটনের প্রতিপক্ষ। সুতরাং অকপটে বললে পাকিস্তানের পদক্ষেপগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি উদীয়মান হুমকি ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে দেখা ওয়াশিংটনের পক্ষে কঠিন। এদিকে পাকিস্তানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি সংস্থা ও একাধিক ফার্মের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।