ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র এবার সরাসরিই জানালেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা তার। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করেছেন এই আল হিলাল ফরোয়ার্ড। তবে এ লক্ষ্য পূরণের আগে নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারে মনোযোগী হতে চান ৩২ বছর বয়সী এই তারকা।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে চাই’- এমনই বলেছেন আল হিলালের এই তারকা। মারাত্মক চোট কাটিয়ে মাত্রই মাঠে ফেরা নেইমার জাতীয় দলে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার আগে নিজের ফিটনেস এবং ক্লাব পারফরম্যান্সে পুরোপুরি মনোযোগী তিনি।
সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘সবার আগে আমি আল হিলালের হয়ে ভালো একটি মৌসুম কাটাতে চাই। মারাত্মক এক চোট থেকে সেরে উঠেছি। আবার নিজের সেরা অবস্থানে ফিরতে সময় প্রয়োজন। ২০২৫ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কারণ ক্লাবের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে নেইমার আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলা সব খেলোয়াড়েরই লক্ষ্য। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমি এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছি এবং চতুর্থ বিশ্বকাপেও খেলতে চাই। এ জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে এবং মনোযোগী থাকতে হবে।’
নেইমার বর্তমানে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন। তবে সর্বশেষ ১৪ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোট থেকে মাঠে ফিরলেও আরেকটি চোটের কারণে আবার এক মাসের জন্য ছিটকে যান।
ব্রাজিল দলে ফেরার বিষয়ে নেইমার বলেন, ‘আমার লক্ষ্য জাতীয় দলে ফেরা। আমাকে ডাকার বিষয়ে কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছি। তবে পরেরবার আমি সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে থাকতে চাই। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু নেই।’
দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে ব্রাজিল। শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে, আর সপ্তম দলকে প্লে অফে লড়তে হবে। আগামী মার্চে বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেইমার।
একসময় শৈশবে ব্রাজিলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন নেইমার। আজ সেই স্বপ্ন ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। নিজেকে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখতে পেয়ে গর্বিত নেইমার। ‘আমার সন্তানেরা জানবে, ব্রাজিলের ইতিহাসে আমি গুরুত্বপূর্ণ ছিলাম,’—এই কথায় ফুটে ওঠে নেইমারের আত্মবিশ্বাস। এখন শুধু অপেক্ষা, ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণে নতুন অধ্যায়ের।