টানা ৭ ম্যাচ জেতা মেট্রোকে হারিয়ে ফাইনালে রংপুর

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ঢাকা মেট্রোকে হারিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রংপুর বিভাগ। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৪ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় রংপুর, যেখানে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রবিউল হক। 

গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকা মেট্রো সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নেমেছিল কোয়ালিফায়ারে। তবে রংপুরের বোলিং তোপে পড়ে তারা ৯ উইকেটে মাত্র ১০৭ রানে থেমে যায়। সেই সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরও শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। তবে তানবির হায়দারের দায়িত্বশীল ইনিংসে ৪ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা। 

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মেট্রো ভালো শুরু করলেও মধ্য ও শেষের দিকের ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১০৭ রানে গুটিয়ে যায়। ওপেনার ইমরানুজ্জামান দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন। মিডল অর্ডারে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে আবু হায়দার রনির ৮ বলে ১৬ রানের ক্যামিও ইনিংসে দলকে একশ পার করান। 

রংপুরের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রবিউল হক। তিনি মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। আলাউদ্দিন বাবু পান ২টি উইকেট, আর এনামুল হক ও আরিফ আহমেদের শিকার একটি করে উইকেট। 

১০৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরও শুরুতে ধাক্কা খায়। ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন দুজনেই ১৭ রান করে ফিরেন। এরপর অধিনায়ক আকবর আলী মাত্র ৭ রান করে রান আউট হলে চাপে পড়ে রংপুর। 

তবে অভিজ্ঞ তানবির হায়দার ও নাইম ইসলাম জুটি গড়ে দলের হাল ধরেন। নাইম ১৬ রান করে ফিরলেও তানবির থেকে যান। আরিফুল হকের সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৩১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রংপুর। আরিফুল ২২ রান করে ফিরলেও তানবির ২২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। 

মেট্রোর বোলাররা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। শহিদুল ইসলাম নেন ২টি উইকেট, আর আলিস আল ইসলাম ও আবু হায়দার রনি পান একটি করে উইকেট। তবে ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় দলকে। 

এই জয়ের মধ্য দিয়ে রংপুর বিভাগ জাতীয় ক্রিকেট লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিল। গ্রুপ পর্বে মেট্রোর কাছে ৭ উইকেটে হারা দলটি এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিতে সমর্থ হলো। এখন ফাইনালে তাদের পারফরম্যান্সে চোখ থাকবে সমর্থকদের।