ফাইনালে রংপুর অপেক্ষায় মেট্রো খুলনা

অবশেষে থামল ঢাকা মেট্রোর জয়রথ। যেন মনে করিয়ে দিল কচ্ছপ আর খরগোশের সেই গল্পটি। এনসিএল টি-টোয়েন্টির রাউন্ড রবিন লিগে একের পর এক ম্যাচ জিতেই চলছিল তারা। সেই জয়ের মিছিলে ছিল নানা অর্জন। তবে কোয়ালিফায়ারে এসে আর সেটা ধরে রাখতে পারল না তারা। নাঈম শেখের দলের জয়রথ থামিয়ে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রংপুর বিভাগ। যদিও ফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি মেট্রোর। অপেক্ষা করতে হবে পরের ম্যাচের জন্য। কুয়াশাচ্ছন্ন সিলেটে চট্টগ্রামকে হারিয়ে খুলনাও পেয়েছে রোমাঞ্চকর এক জয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার আজ তারা খেলবে নাইমদের বিপক্ষে।

সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা নেই, কুয়াশা আর শিশিরের আঁচলে ঢাকা। রোদের ছোঁয়া পায়নি উইকেট। শুধু শীতল বাতাস আর ভেজা পরিবেশে চলেছে ম্যাচ। এই আবহাওয়ার কারণে গতকাল হয়েছে লো-স্কোরিং যুদ্ধ, যেখানে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন না স্বস্তিতে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী রোদের দেখা মিলবে না আজও। ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হতে পারে আরেকটি লো-স্কোরিং ম্যাচ। শৈত্যপ্রবাহ বজায় থাকলে ফাইনালেও একই আচরণ করতে পারে উইকেট।

রংপুরের জয়

ঢাকা মেট্রো কোয়ালিফায়ারের মঞ্চে এসে তাদের গ্রুপ পর্বের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। আগে ব্যাট করে মেট্রো মাত্র ১০৭ রানে গুটিয়ে যায়, যা রংপুরের কাছে ছিল সহজ লক্ষ্য। তবে শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তানবির হায়দারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কল্যাণে রংপুর ৪ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। মেট্রোর হয়ে ওপেনার ইমরানুজ্জামান সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন। আর মিডল অর্ডারের আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। রংপুরের বোলিংয়ে রবিউল হক ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর, ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচের রূপ বদলে দেন।

তার পারফরম্যানস দেখে মনে হয়েছে সূর্য না উঠলেও রবির তোপে সিলেটে হেসে উঠেছিল রংপুর।

১০৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৭ রান করে ফিরে গেলে, অধিনায়ক আকবর আলীও ৭ রান করে রান আউট হন। তবে তানবির হায়দারের ২২ রানের অপরাজিত ইনিংসে রংপুর ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায়। মেট্রো বোলার শহিদুল ইসলাম ২ উইকেট নিলেও ব্যাটিং দুর্বলতার কারণে তাদের হারের কোনো উপায় ছিল না।

খুলনার জয়

এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা বিভাগের কাছে চট্টগ্রাম বিভাগ হেরে যায় ৭ রানে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খুলনা প্রথমে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়, তবে তাদের বোলিং দল চট্টগ্রামকে ১৩৯ রানে সীমিত করে ফেলে। খুলনার হয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৩৯ বলে ৫২ রান করেন, যদিও তার পাশে কেউ দাঁড়াতে পারেননি। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বোলিংয়ে আহমেদ শরীফ ২৬ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন।

চট্টগ্রামের ১৪৬ রানের লক্ষ্য সহজ মনে হলেও তাদের ব্যাটিংয়ে নানা বাধা এসেছে। শাহাদাত দীপু ২৩ রান করে শুরুতে কিছুটা আশা জাগান, তবে খুলনার বোলার মাসুম খান টুটুল ও মেহেদী হাসান রানা দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। চট্টগ্রাম ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ইয়াসির আলী চৌধুরী ২৭ বলে ৩৪ রান করে দলের হাল ধরলেও, চট্টগ্রামকে জয় এনে দিতে পারেননি। খুলনার বোলার রানা ১২ রানে ২ উইকেট নেন, আর টুটুল ১৭ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ১৩৯ রানে থেমে গেলে, খুলনা ৭ রানে এলিমিনেটর ম্যাচটি জয়লাভ করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

ঢাকা মেট্রোর জয়রথ থেমে গেলেও ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। আজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে খুলনার বিপক্ষে। যে জিতবে সেই নিশ্চিত করবে ফাইনালের টিকিট।