‘আমার ছেল বেঁচে আছে কি না জানি না। আমি জানি না তার বন্ধু আছে না শত্রু আছে। আপনারা যেভাবে পারেন আমার ছেলেকে উদ্ধার করে দেন।’
রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধনে কান্না জড়িত কন্ঠে এই আকুতি জানান জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালেদ হাসানের বাবা লুৎফর রহমান (৫০)। খালেদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে ‘নিখোঁজ' খালেদ হাসান। তার বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বাবা লুৎফর রহমান বলেন, ‘খালেদের ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা সেটা সফল হয়েছে। যারা শহীদ ও আহত হয়েছে তারা দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তার কি হয়েছে আমি জানি না। আমার দিন নাই, রাত নাই। আজকে এই অফিস, কালকে ওই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতেছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। সে যেই অবস্থায় থাকুক তাকে আপনারা উদ্ধার করে দেন।'
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ , ‘আমার ভাই নিখোঁজ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খালিদের সন্ধান, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ — ইত্যাদি স্লোগান দেন। অতিদ্রুত খালেদ হাসানকে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা দেখেছি যারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের অনেকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর ইতোমধ্যে হামলা করা হয়েছে। আমাদের খালেদ কয়েকদিন থেকে নিখোঁজ। আমরা অতি দ্রুত তার সন্ধান চাচ্ছি।’
মুরাদ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ’আমরা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে খুনি শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিতাড়িত করেছি। এরপর ইউনূস সরকারকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছেন তাদের অন্যতম একজন খালিদ তিন দিন ধরে নিখোঁজ অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ—সমন্বয়ক নাদিম মাহমুদ শুভ বলেন, আমার ভাই ৭২ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন খোঁজ নিতে পারতেছে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা কি করতেছে? লজ্জা, লজ্জা! আমরা এই ধরনের প্রশাসন চাই না।
আরেক শিক্ষার্থী তাহমিনা বিনতে আমিন, ‘আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং তার বিষয়ে কোন তদন্ত দিতে পারেনি। অতি দ্রুত তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে হবে।'
মানববন্ধন শেষে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে কলা ভবনের মূল গেটে এসে শেষ হয়।