দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পৌর মেয়রের বাসায় আগুনে পুড়ে নিহত মুহতাসিম হাসান ফাহিম ওরফে নাঈম (২১) এর মরদেহ ৪ মাস ১৮ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গির আলমের উপস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পুর্বরামচন্দ্রপুর কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তালন করা হয়।
এ সময় সেখানে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিঞা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম জাহাঙ্গির আলম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত নাঈম পাঁচবিবি উপজেলার পুর্বরামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গির আলম বলেন, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাকিমপুরের নির্দেশনা মোতাবেক জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার অন্তর্গত পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুহতাসিম হাসান ফাহিম ওরফে নাঈমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বজায় রাখার জন্য আমি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে এসেছি। সাড়ে ৪ মাস পর নিহত যুবকের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিঞা বলেন, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্তের বাসায় আগুনে পুড়ে সুর্য ও নাঈম নামের দুই যুবক নিহত হয়। এই ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট নিহত সুর্যের ভাই সুজন বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুর্যের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাকিমপুর আদালত মরদেহ উত্তেলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশে দেয়। তার প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে জয়পুরহাটের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপর যুবক নাঈমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বিকেলের দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্তের বাড়িতে আগুন ধরে দেয়। ওই দিন রাতেই ওই বাড়ি থেকে আসাদুজ্জামান নূর সূর্য ও নাইম ইসলাম নামের দুই জনের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ,পৌর মেয়র জামিল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২৩ জনকে নামীয় ও অঙ্গাতনামা ৯০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে হাকিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সুর্যের ভাই সুজন।