বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিষয় আছে যাতে পড়াশুনা করে আপনি আনন্দ পাবেন, দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতা পাবেন। এমন একটি বিষয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয়। সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন দিকের সমন্বয় ঘটায়। এ বিষয়ে পড়াশোনা আপনাকে সুদৃঢ় বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি দেবে, যা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে, আপনি জানবেন কীভাবে পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো যায় এবং বৈশ্বিক দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে অবদান রাখা যায়। আপনি যদি চান পরিবর্তন আনতে, উন্নয়ন প্রকল্পের নেতৃত্ব দিতে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে, তবে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ পড়তে পারেন।
কোথায় পড়বেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্স ডিগ্রি চালুর মাধ্যমে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে স্নাতক কোর্স চালু হয়। এরপরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ চালু করা হয়। বর্তমানে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, ইনডিপেনডেন্ট ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
যা পড়ানো হয়
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়টি এ ধারণা দেয় যে উন্নয়ন মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, উন্নয়নের বহুমাত্রিক ধারণাকে কেন্দ্র করেই এ বিষয়টির মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবেশ, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পাবলিক পলিসি, জেন্ডার, প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক গবেষণা পদ্ধতির মতো বিষয়গুলো পড়ানো হয়। সামাজিক বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক, প্রায়োগিক ও গবেষণা শিক্ষাকে অর্থবহভাবে একত্রীকরণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে এমন পরিপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ অন্যান্য বিষয়ে খুব একটা নেই।
কাজের ক্ষেত্র
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতে পারবেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেমন, পরিবেশ, পানিসম্পদ, পরিকল্পনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শ্রম, কৃষি ও গৃহস্থালি উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও, ফাউন্ডেশন এবং সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রিয়। এ ধরনের সংস্থাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজের সুযোগ রয়েছে। যেমন: জাতিসংঘের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করতে পারবেন। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ডাচ এজেন্সি, ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আর্থিক সহায়তা ও গবেষণায় জড়িত হতে পারবেন। এছাড়া দারিদ্র্য দূরীকরণ, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানবাধিকার কর্মসূচিতে কাজগুলো হয় এ রকম ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান রেডক্রস, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেনে কাজের সুযোগ রয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ : ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র দেশে নয় বরং ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানেও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্র : উন্নয়ন গবেষণা, সামাজিক গবেষণা এবং বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার মাধ্যমে আপনি স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করতে পারবেন। উন্নয়ননীতির কৌশলগত বিশ্লেষণ, প্রকল্প মূল্যায়ন বা জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ওপর গবেষণা করে সমাজের নানা সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পেশাদাররা দেশে-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারেন। আপনি যদি গবেষণা বা অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে এই বিষয়ে আপনি একাধিক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আপনিও আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করতে পারবেন। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। পরিবেশ রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত করতে বিভিন্ন সংগঠনওশুরু করতে পারেন।
টেকসই উন্নয়ন : ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এবং বৈশ্বিক ন্যায়ের প্রচারে কাজ করতে পারেন। আপনি যদি সামাজিক ন্যায় এবং উন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহী হন, তাহলে মানবাধিকার, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শান্তি ও নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।