বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যাওয়ার জন্য স্বজনরা গাজীপুরে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায় এক বৃদ্ধকে। অসুস্থ থাকায় বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে স্বজনরা ওই বৃদ্ধকে বাড়ি না নিয়ে জঙ্গলে ফেলে যান। পরে জয়দেবপুর থানার পুলিশ ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই বৃদ্ধ সুস্থ হলে সোমবার রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে রেখে আসে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম সাকিব আলী সরদার (৬৫)। তিনি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার চরডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বড় মেয়ের বাসায় থাকতেন তিনি।
জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মনিপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধকে নেওয়ার চেষ্টা করে তার সন্তানরা। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ অসুস্থতার কারণে তাকে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করলে, সন্তানেরা তাকে জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। অসহায় অবস্থায় তিনদিন সেখানে পড়ে থাকার পর স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন। এ সময় ওই বৃদ্ধ অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় ছিলেন, তার পায়ে মল-মূত্র লেগে ছিল এবং প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার করা ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ২০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তবে এতদিনেও তার কোনো সন্তান বা স্বজন খোঁজ নিতে আসেননি।
বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেয়। এরপর মঙ্গলবার রাতে জয়দেবপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম নিজ উদ্যোগে তাকে থানার গাড়ি দিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তৃপক্ষের কাছে বৃদ্ধকে বুঝিয়ে দেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
ওসি হালিম বলেন, ‘এমন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করব, তিনি যেন বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে পারেন।’
পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পাওয়ার পর সাকিব আলী সরদার বলেন, ‘আমার সন্তানরা আমাকে ফেলে গেলেও আল্লাহ আমাকে সাহায্য করার জন্য এমন মানুষ পাঠিয়েছেন। আমি এই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ।