বলিউডে চলছে দক্ষিণী ঢেউ। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের প্রভাব বলিউডে দিচ্ছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুষ্পা ২ – দ্য রুল’ হিন্দি ভার্সনে ৭০০ কোটিরও বেশি আয় করে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। তবে বলিউড তারকাদের মধ্যে এই প্রবণতা পুষ্পা ২’র আগেই শুরু হয়েছিল। বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, সালমান খান এবং বরুণ ধাওয়ান এখন দক্ষিণী পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তাদের এই সিদ্ধান্ত বক্স অফিসে ফলপ্রসূ হচ্ছে।
শাহরুখ খানের এটলির তৈরি ছবি ‘জওয়ান’ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সালমান খান বর্তমানে এ.আর. মুরুগাদোস পরিচালিত সিকান্দার ছবিতে কাজ করছেন। মুরুগাদোসের আগের বলিউড ব্লকবাস্টার ছবি ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গজনি’ এবং ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হলিডে – আ সোলজার ইজ নেভার অফ ডিউটি’। অন্যদিকে, বরুণ ধাওয়ানের বড়দিনের ছবি ‘বেবি জন’ পরিচালনা করেছেন কালিস এবং প্রযোজনা করেছেন এটলি। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিবেশক রাজ বানসাল বলেন, "আমাদের পরিচালকদের মধ্যে যে প্রতিভা ও জোর থাকা উচিত, তা নেই। এজন্যই তারকারা দক্ষিণের দিকে ঝুঁকছেন। এটি বলিউডের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।"
ট্রেড অ্যানালিস্ট অতুল মোহনও একমত হয়ে বলেন, "অনেক বলিউড অভিনেতা আমাদের পরিচালকদের ওপর ভরসা করতে পারছেন না যে তারা বড় মাপের ছবি তৈরি করতে পারবেন।" প্রবীণ ট্রেড বিশেষজ্ঞ তারান আদর্শ ব্যাখ্যা করেন যে, "দক্ষিণী পরিচালকরা তাদের গল্পের প্রতি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং তাদের সেই বিশ্বাস তাদের সিনেমাকে সফল করছে।"
অতুল মোহন আরো বলেন, "বর্তমান সিস্টেমে অভিনেতাদের কাছে অনেক সময় ভাল গল্প পৌঁছায় না। তাদের ম্যানেজার এবং টিমের ফিল্টারের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় বিষয় আটকে যায়। ফলে ভাল প্রজেক্টগুলোর সুযোগ নষ্ট হয়।"
দক্ষিণী চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বলিউডকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এই জনপ্রিয়তা কি বলিউডের নিজস্ব বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে? সময়ই দেবে এর উত্তর।